দোহারে পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামের অপেক্ষায় চাষিরা

দোহারে পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামের অপেক্ষায় চাষিরা

চলতি মৌসুমে পাটের ভালো আবাদ হয়েছে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায়। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে আগামীতে চাষ আরো বাড়ানোর কথা বলছেন পাট চাষিরা। ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা। 

সূত্রে জানা গেছে, পাট চাষের জন্য দোহারে এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। উপজেলার নারিশা, মুকসুদপুর, সুতারপাড়া, বিলাশপুর ইউনিয়নে পাটের আবাদ হয়েছে ভাল। সেখানকার অধিকাংশ জমিই এক ফসলি। দুই বা তিন ফসলি জমির পরিমাণ কম। সে কারণে এই অঞ্চলের চাষযোগ্য সব জমিতেই বহুকাল থেকে পাটের আবাদ হয়ে আসছে। মাটির উর্বরতা অনুসারে পাট গুণে-মানে খুবই উন্নত। এমতাবস্থায় দোহারে পাট চাষ বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান গ্রামের কৃষকরা।

তবে বাম্পার ফলনের সঙ্গে পাটের বাম্পার দাম না পেলে কৃষকের চকচক করতে থাকা চোখে অন্ধকার নেমে আসবে বলে মনে করছেন সাতভিটা গ্রামের চাষি মোঃ হাফেজ উদ্দিন। তিনি জানান, গত এক মাসে পাটের দাম প্রতি মণ দেড় হাজার টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার টাকা হয়েছে। এ বছর পাটের দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

উপজেলার সাতভিটা গ্রামের মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানালেন, তিনি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাটের চাষ শুরু হয় চৈত্র মাসের মাঝামাঝিতে। আষাঢ়ের শেষার্ধ থেকে কাটা শুরু হয়। তাঁর ৫ বিঘাতেই বেশ ভালো ফলন হয়েছে। তিনি আরো জানান, এখন বিঘাপ্রতি পাট চাষে খরচ (কাটা, ধোয়া, শুকানো পর্যন্ত) হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে পাটের দাম ছিলো মানভেদে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

তবে প্রতি বছর পাটের দাম এক রকম থাকে না। অনেক সময় দাম নেমে আসে। তখন বহু শ্রম ঘাম আর খরচের ফসল তাঁদের ‘গলার ফাঁসে’ পরিণত হয়। এ বছর ভালো মানের তোষা পাটের দাম প্রতি মণ দুই হাজার টাকার ওপরে থাকবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা। বাজারের অবস্থা ভালো থাকলে এই অঞ্চলের কৃষকের জীবনে সচ্ছলতা নিয়ে আসবে সোনালী আঁশ পাট।

তবে সরকারি ও বেসরকারি পাটকলগুলো যদি শুরু থেকেই পর্যাপ্ত পাট কেনে, তাহলে প্রতি মণ পাট দুই হাজার টাকার মধ্যে থাকবে। এতে চাষিদের কষ্ট সার্থক হবে।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

    মতামত দিন