রুশ-মার্কিন পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা

  • প্রকাশিতঃ 2019-08-02 12:32:18
রুশ-মার্কিন পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা
স্নায়ু যুদ্ধে ইতি টানতে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের মধ্যে আইএনএফ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সে সময় ৫০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে অর্থাৎ মাঝারি পাল্লার কোনও ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়তে দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। 
চিরাচরিত এবং পরমাণু, দু'ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ওপরেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কিন্তু, ক্ষমতায় আসার পরে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে চুক্তি ভাঙ্গার অভিযোগ আনে, যা বরাবরই প্রত্যাখান করে আসছে মস্কো। 
রাশিয়ার সঙ্গে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি (আইএনএফ) থেকে সরে আসার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেইমতো শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রস্তুতি। শুক্রবার (২ আগস্ট) থেকে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার এই পদক্ষেপ রাশিয়ার সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র-প্রতিযোগিতার পথ প্রস্তুত করল বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।  
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড প্রস্তুতের অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে ধ্বংস করতে বললে রাশিয়া তা প্রত্যাখান করে। 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐতিহাসিক স্নায়ু যুদ্ধ চুক্তির স্থানে একটি নতুন চুক্তি প্রতিস্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বিকেলে ভয়েস অফ আমেরিকার এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, 'রাশিয়া পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে কিছু করতে চায় এবং তা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই। তারা কিছু করতে চাইলে আমরাও কিছু করব'। 
আগের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কী কথা হয়েছে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, আমরা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করিনি।
চলতি বছরের গোড়ার দিকেই এই চুক্তি থেকে তারা বেরিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসন। তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় রাশিয়ার সঙ্গে। 
সম্প্রতি আমেরিকার নতুন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার বলেছিলেন, 'দু'তরফের সহায়তা ছাড়া চুক্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়।' ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চুক্তি ছেড়ে বেরনোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাতে স্বাক্ষর দেন।
নাবা/ডেস্ক/কেএইচ

    মতামত দিন