কালা পাহাড়কে দেখতে ভিড়: দাম হাকা হয়েছে ২০ লাখ

  • প্রকাশিতঃ 2019-07-25 21:29:24
কালা পাহাড়কে দেখতে ভিড়: দাম হাকা হয়েছে ২০ লাখ

সাড়ে তিন বছর বষসের একটি গরু দেখতে কালো মিছমিসে। তাই সখ করে ওদের নাম রাখা হয়েছে কালো পাহাড়। সাড়ে তিন বছর ধরে চলছে তার লালন-পালন ও সেবা-যত্ন। বর্তমানে এক একটির ওজন হয়েছে প্রায় ৩৫ মনের মতো। সামনে আসছে ঈদুল আযহা (কোরবানির ঈদ) বিক্রির জন্যই পরিবারের সবাই মিলে ওদের সেবাযত্নে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিশাল আকৃতির এই কালা পাহাড়কে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে লোকজন।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামে আর্দশ খামারী মোঃ কাসেদ খান এই গরুটির মালিক।তিনি জানালেন,প্রতিদিন তার খামারে বিশাল আকৃতির এই কালাপাহাড়কে দেখতে বাড়িতে উৎসুক জনতা ভীর করছে। তার খামারে এবার আরো ১২টি গরুকে দেশীয় খাবার খাওয়ায়ে কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে। তার প্রতিটি গরুরর ওজনই  ১৫/২০মনের ওপরে।

এলাকাবাসী ও বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানালেন,কাসেদ খান নিজেই ৩ বছর ধরে লালন পালন করে প্রায় ৩৫ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির এই  কালা পাহাড়কে গড়ে তুলেছেন।কাসেদ খান বলেন, আমি ৫ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান জাতের দুটি গাভী লালন পালনের উদ্দেশ্যে ক্রয় করে থাকি। পরে ওই গাভীর বাচ্চা দুটি পছন্দ হওয়ায় বাচ্চা দু’টি লালন পালন করতে থাকি। গত বছর কোরবানিতে এর একটা ১০হাজার টাকায় ঢাকার এক ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেছি। আর কালোটি যা আজ প্রায় ৩৫ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির ষাড় গরুতে রুপান্তরিত হয়েছে। ষাড়টি সম্পূর্ন কালো হওয়ায় তাকে  কালা পাহাড় বলে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে। এবার তার দাম চেয়েছেন বিশ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ঢাকার এক ব্যাপারী কালাপাহাড়রের দাম ১৫লাখ বলেছেন। কিন্তু কাসেদ খান জানালেন,কোরবানির এখনো অনেক দিন বাকী আছে। তাই এর দাম আরো বাড়ার আশায় তিনি বিক্রি করেন নাই।

ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে পূর্বে এত বড় আকৃতির ষাড় গরু রাজবাড়ী জেলাসহ দক্ষিাণাঞ্চলের কোন জেলার কোথাও সচরাচর দেখা মেলেনি। তাই পাশবর্তী এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত শত শত নারী, পুরুষ, ছোট বাচ্চারা আসে তাদের দেখতে। প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় দেখে গরুর মালিক একটু বিচলিত হতো প্রথম দিকে। তবে কালো পাহাড়ের প্রশংসা শুনে মন আনন্দ ভরে ওঠে বলে জানালেন গরুর মালিক কাসেদ খান। দেশীয় ব্যবস্থায় গরুুটিকে লালন পালন প্রসঙ্গে গরুর মালিক বলেন,  কালা পাহাড়কে প্রতিদিন কলা, চোলা, খড়, ভুট্রা, আলু, মিষ্টি আলু, ভুষি, খুদ, কাচা ঘাস দিনে ৫ থেকে ৬ বার খাওয়ানো হয়। আর বিশাল আকৃতির হওয়ায় কালোর শরীর ঠান্ডা রাখতে ৪ থেকে ৫ বার গোসল করানো হয়। এর জন্য বাড়িতে মোটর লাগানোসহ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাড়িতে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়াও গরু টিকে সারাক্ষণ বাতাসের মধ্যে রাখার জন্য ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সবচে মজার কথা হল কালো পাহাড়কে শোবার জন্য গাজী টায়ার কোম্পানীর ৪টি ফোলডিং টাযারের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।গরুুটিকে দেখতে আসা স্থানীয় সাংবাদিক আতিক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় বিশাল আকৃতির এই কালা পাহাড় নামের গরুর কথা নাম শুনে আজ দেখতে এসেছি। এত বড় আকৃতির গরু আমার জীবনে এই প্রথম বার দেখলাম। আমার ধারণা গরুুটির ওজন প্রায় ৩৫মণ হতে পারে। আর রংয়ের সাথে মিল থাকায় এদের নাম রাখা হয়েছে কালা পাহাড় ,তাই আরো বেশি আকর্ষন সৃষ্টি করেছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুল হক সরদার জানান, এবার জেলায় ৬হাজার খামারে প্রায় ৪২হাজার গরু সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধতিতে কাঁচাঘাস ও খড়,খৈল-ভুষি খাওয়ানো মাধ্যমে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই উৎ্পাদিত গরু দিয়েই অভ্যন্তরীণ কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়েও বাকী গরুগুলো ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় খামারি লাভবান হবেন।তবে  রাজবাড়ীর গরুর খামরীদের আশংকা ঢালাও ভাবে ভারতীয় গরু দক্ষিনাঞ্চলের বর্ডার দিয়ে কোরবানি আগে আসলে এখানকার খামীরা মার খাবে পথে বসে যাবে। তাই তাদের দাবি সরকার কোরবানির আগে ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধ পথে গরু আসা সম্পূর্ন বন্ধ করে দিয়ে দেশি খামারীদের সঠিক দামে কোরবানির পশু বিক্রির  সুযোগ করে দিয়ে আগামী আরো অধিকহারে খামার করে বেকারত্ব দূর করার ব্যাবস্থা করে দিক।

নাবা/ডেস্ক/হাফিজ

    মতামত দিন