রেনু! শুধু সন্দেহের কারণে থেমে গেল যার জীবন

  • প্রকাশিতঃ 2019-07-21 22:19:41

এক ভয়ঙ্কর দেশে বাস করছি আমরা দিন দিন মানুষের মনুষত্য নিচে নেমে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে দেশে কোন মানুষ থাকবেনা থাকবে শুধু পশু। যতদিন যাচ্ছে দেশের মানুস যেন বেশী নৃশংস হচ্ছে।


মেয়ের স্কুলে ভর্তির খবর নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হলেন রেনু। কি ভয়ঙ্কর ঘটনা! দেশে এসব কি শুরু হয়েছে! আমাদের জাতির মূর্খতা, পাশবিকতা আর অপাত্রে ক্ষমতা আমাদের নীতিহীনতা সামাজিক অবক্ষয় কে কোথায় নামিয়েছে!

মানুষ পিটিয়ে হত্যাকান্ডের মত কাজ গুলো আগে পাকিস্তান আর্মিরা করত। তারা সরকারী বুলেট খরচ করতনা। দেশ কি পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে?

মৃত্যুর সময় হবার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতে হল রেনু কে। যার মধ্যে আমি নিজেকে সহ আরো অনেকের ছায়া দেখতে পেলাম। এমন হত্যাকান্ডের শিকার আমিসহ আরো অনেকেই হতে পারে।

একজন স্বামীহীন, একলা জননী রেনু। তার সন্তান তুবা এখনো জানেনা তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। এক সন্দেহের বশে এক মেয়ে হারাল তার মাকে। একটু ভাবুন তাহলে বুঝতে পারবেন যারা এ কাজ করেছেন  আপনারা কত অপরাধী ।

এই মেয়েটা যখন জানতে পারবে তখন কি জবাব দেবেন আপনারা? এই আমাদের সোনার বাংলা। যেখানে অপরাধীর বিচার হয়না। আর নিরাপরাধী মারা যায়।

যারা ক্রসফায়ারের পক্ষে সবসময় কথা বলেন এখন তারা গনপিটুনিতে হত্যাকান্ড নিয়ে নিশ্চুপ কেন? প্রায়ই তো তারা বলে থাকেন একে ক্রসফায়ারে দিন ওকে ক্রসফায়ারে দিন এখন তারা নিশ্চুপ কেন?

দিন কে দিন এক অসুস্থ জাতিতে পরিনত হচ্ছি আমরা। কিছু নির্বোধ, অসাধু পাবলিক আছে যারা ঘটনা বিচার না করেই ভদ্রলোকদের মারধোর করে আর গনপিটুনি বলে চালিয়ে দেয়।

যে ছেলেধরা গুজব আগে ছড়িয়েছে তার সর্বপ্রথম শাস্তি হওয়া উচিত। এই দেশের মানুষ এখন পশুর চাইতেও অধম।

ছোট্ট তুবার জন্য প্রার্থনা করি পরম করুনাময় যেন তাকে একা পথ চলার ক্ষমতা দেন। আর যেসব হুজুগে পিশাচ, জানোয়াররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের উপর আল্লাহর গজব পরুক।

 দেশের আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী কোথায়? যখন দেশের এই কঠিন অবস্থা প্রশাসন কি ঘুমিয়ে আছে?

গত কয়েক দিন শুধুমাত্র পদ্মাসেতুর গুজব রটিয়ে বেশ কয়েকটি খুন হয়েছে। এক শ্রেণির শিক্ষিত সমাজ রাজনৈতিক কারণে গুজব রটাচ্ছে। আর বিশ্বাস করানো চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আজকে আবার নতুন এক খবর চাঁদপুরে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। কবে এসব অপমৃত্যুর হাত থেকে আমরা মুক্তি পাব?

মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু সামাজিক পাশবিকতার শিকার হয়ে আমরা কোন মৃত্যু আর দেখতে চাইনা। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু চাই।

তানিয়া রাত্রি

    মতামত দিন