যে কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশিতঃ 2019-07-21 18:39:42
যে কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি

সাতক্ষীরাসহ দেশের সকল বাজারে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের খুচরা দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে পেঁয়াজ।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির জন্য ভারতের অটোমেশন এবং পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত সরকারের দেওয়া প্রণোদনা ৩০জুন থেকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি সামনে আনছেন সাতক্ষীরা ভোমরা বন্দরের ব্যবাসায়ী নেতারা। এদিকে পেঁয়াজের এই দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অন্তোষ বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ভারতের পেঁয়াজের আঞ্চলিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে চাহিদার অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ কেউ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেটকে দায়ী করলেও সে অভিযোগ একেবারে অস্বীকার করেছে ব্যবসায়ী নেতারা। তবে কাস্টম কর্মকর্তার বলছেন পেঁয়াজের আমাদানি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

সাতক্ষীরা শহরের বাসিন্দা সাখাওয়াউল্লাহ বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে যে পেঁয়াজ খুচরা মূল্য ছিলো ২০থেকে ২৫ টাকা ছিলো এখন ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। দেশী পেঁয়াজ ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে পেঁয়াজ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।’

সাতক্ষীরা ভোমরা কাস্টমস সহকারী কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতা থেকে ভোমরা মাত্র ৬২ কিলোমিটারের রাস্তা। সে কারণে পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় পয়েন্ট হচ্ছে ভোমরা স্থল বন্দর। গত এপ্রিল মাসে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমাদানি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী ২ হাজার ১৩২ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সেখানে মে মাসে ১ হাজার ১২৫টি ট্রাকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমাদিন হয়েছে ২৬ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে জুন মাসে মাত্র ৮ হাজার ৬১৭ মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুয়যায়ী প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আর এখন প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মেসার্স মা টের্ডার্সের মালিক আমির হামজা বলেন, ভারতের আঞ্চলিক চাহিদা বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই প্রভাব বাংলাদেশের উপর পড়েছে। ভারত সরকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের রপ্তানিতে উদ্বুদ্ধ করতে পেঁয়াজের উপর ১০% ভতুর্কি দিতো। তাদের অভ্যন্তরে দাম বৃদ্ধির কারণে জুন মাস থেকে সেই ভতুর্কি আর দিচ্ছে না। সে কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬টাকা বেড়েছে। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ভারতের নাসিক থেকে ১৫ থেকে ১৬ টাকায় কিনেছি। সেই পেঁয়াজ ২২ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভোমরা স্থল বন্দরের বিপরীতে ভারতীয় অংশে পেঁয়াজের ফরওয়াডিংয়ে অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কিন্তু কোন দক্ষ জনবল নেই এবং অনলাইনের সার্ভার নিয়মিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে সে কারণে আমদানি এবং রপ্তানিতে ব্যাঘাত ঘটছে। আগে ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৩’শর বেশি ট্রাক প্রবেশ করতো অনলাইন হওয়ার পর তার অর্ধেক নেমে এসেছে। আগে ১’শর উপরে পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করলেও এখন ৩৫থেকে ৪০টি ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এতে করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আশিক এন্টার প্রাইজ ও ভোমরা বন্দর আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আল ফেরদাউস আলফা বলেন, ‘ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুট বেড়েছে। অপরদিকে অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে ভারতের সবচেয়ে বেশী পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়া এলাকা নাসিক। সরবরাহ কমে যাওয়ায় সে দেশের বাজারে এ পণ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। সে কারণে বেশি দামে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। সেই প্রভাব বাংলাদেশর বাজারে পড়েছে। আগে বন্দর কাচা মালের ক্ষেত্রে আগে প্রবেশের অগ্রিাধিকার দেওয়া হতো কিন্তু অনলাইন হওয়ার কারনে সেটা আর হচ্ছে না।’

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, ‘ভারতের কোলকাতা থেকে ভোমরা বন্দর রাস্তা কম হওয়ায় এই বন্দর দিয়ে বেশী পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। সম্প্রতি দুই দেশেই অটোমেশন চালু হয়েছে। আমদানি-রপ্তানিরর ক্ষেত্রে গতি বাড়াতে দুই দেশের কমপক্ষে ৫টি স্কেল বসানে উচিত। কিন্তু সেখানে স্কেল আছি মাত্র ১টি এবং দক্ষ জনবলের অভাব। আর ভারতীয় অংশে প্রতিদিনিই সার্ভার সমস্যার কারনে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরের এপিল মাসে প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কিন্তু অটোমেশন বসানোর পরে বিশেষ করে ভারতীয় অংশে প্রতিদিন সার্ভর সমস্যার কারণে এখন ৩৫থেকে ৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আসছে। আমাদানি হ্রাস পাওয়ার কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত পর্যাপ্ত অটোমেশন এবং দক্ষ জনবল বসানো। তা না করা হলে দুই দেশের সরকার অনেক টাকা রাজস্ব হারাবে এবং পেঁয়াজসহ আমদানি পণ্যাগুলো ক্রেতাদের ক্রয় মূল্যের বাহিরে যাবে।’

সাতক্ষীরা ভোমরা শুল্ক স্টেশন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিভিন্ন কারণে জুন মাসে পেঁয়াজের আমদানি একটু কম হলেও জুলাই মাছে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আমাদানি করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

    মতামত দিন