ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নারীর সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ নিয়ে তোলপাড়

  • প্রকাশিতঃ 2019-07-19 20:53:54
ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নারীর সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ নিয়ে তোলপাড়

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহা নামের এক নারী সাক্ষাৎ করে ঘর পুড়িয়ে দেওয়াসহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এই দেশে থাকার ব্যবস্থা করতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন। 'দ্যা হোয়াইট হাউজ' নামক ইউটিউবের ভেরিফায়েড চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে।

নেট দুনিয়ায় এ নিয়ে সমালোচনার তুমুল ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রিয়া সাহা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের কাছে এ ধরনের নালিশ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। কেউ কেউ তাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন...

‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের এনজিওদের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তর মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোন অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।

তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।

তার অভিযোগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে টাম্পও জানেন যে তার কাছেও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের এখানকার দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত তথ্য পেয়ে থাকে এবং আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকি।

প্রিয়া সাহার সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমালোচনা করছেন। এটাও ঠিক নয়। যেমনটি নয় প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ। সমাজের সকল স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে যার যোগাযোগ তার একইরকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

ধর্মীয় সম্প্রতির এক উজ্জ্বল দৃস্টান্ত বাংলাদেশ। অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বা না বুঝে এটার ক্ষতি করে ফেলেন। সবার উচিত এইধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ শুক্রবার বলেন, দেশের কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর এমন (প্রিয়া সাহার বর্ণিত) নির্যাতন হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

হোয়াইট হাউজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই ভিডিওটি ২৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের। দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা স্ব স্ব দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের পরিস্থিতে সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এর মধ্যে ১১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের সময় প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এসে কথা বলতে শুরু করেন।

তিনি ট্রাম্পকে ইংরেজিতে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বাস করে। দয়া করে আমাদের সহায়তা করুন। আমরা বাংলাদেশি নাগরিক, আমরা চাই সেখানে অবস্থান করতে। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। জমি নিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। ট্রাম্পের এক প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, দুর্বৃত্তরা মুসলিম মৌলবাদী। তারা সব সময় রাজনৈতিক সাপোর্ট পেয়ে থাকে।

নানা সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি পিরোজপুরের মাটিভাঙ্গা এলাকায়।

নাবা/ডেস্ক/তারেক

    মতামত দিন