বড় পর্দায় পা রাখার আগে সাগর জাহানের কিছু কথা

  • প্রকাশিতঃ 2019-06-30 11:43:56
বড় পর্দায় পা রাখার আগে সাগর জাহানের কিছু কথা
টেলিভিশন নাটকে তুমুল জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা সাগর জাহান। যার প্রতিভা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আরমান ভাই, সিকান্দার বক্স, অ্যাভারেজ আসলাম, মাহিন, মাধবীলতা  ফ্যাটম্যানসহ বেশকিছু জনপ্রিয় নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। প্রতিটি নাটকেই তিনি হাসি-আনন্দের মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা দিয়েছেন দর্শক ভূবনে। দর্শকদের প্রিয় নির্মাতাই এবার পা রাখতে যাচ্ছেন বড় পর্দায়। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছর ডিসেম্বরে নিজের প্রথম সিনেমার শুটিং শুরু করবেন দর্শকখ্যাত নির্মাতা সাগর জাহান। সম্প্রতি নিজের সমসাময়িক ব্যস্ততার পাশাপাশি কথা বলেছেন বড় পর্দায় নিজের নতুন যাত্রা নিয়ে।এখন ব্যস্ততা কি নিয়ে? সামনে কুরবানীর ঈদ। এই ঈদে সময়টা খুব কম। আপাতত ব্যস্ততা ঈদের নাটক নিয়েই। তাছাড়া আমার একটি ধারাবাহিক যাচ্ছে এনটিভিতে ‘সোনার খাঁচা’। সেই ধারাবাহিক আর ঈদ নাটক নিয়েই ব্যস্ততা।ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিকল্পনা?রোজার আগে থেকে আমার একটা পরিকল্পনা ছিল, আমি মিডিয়া কেন্দ্রিক কিছু বানাবো। যার একটা নাটক প্রচার হয়েছে রোজার ঈদে। আর কুরবানী ঈদে যাবে বিন্দাবন দাদার লেখা ‘হ্যাভিওয়েট মিজান’। আর এখন যেটার কাজ চলছে (কোনো এক বিকেলে হলুদ শাড়ি) এটাও মিডিয়া কেন্দ্রিক। একজন মেকআপ আর্টিস্ট নিয়ে একটু ভিন্ন ধরনের। আরেকটা গল্প আছে সেটাও মিডিয়া কেন্দ্রিক। তবে সবগুলোই আলাদা আলদা গল্পের মাধ্যমে মিডিয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা।দর্শকদের জনপ্রিয় নাটকগুলো সঙ্গে আপনার নাম জড়িয়ে আছে এটা আপনাকে কতটা আনন্দ দেয়?এটা হওয়ার পেছনে একটু কারণ রয়েছে। সেটা হলো সেই ২০০৪-২০০৫ থেকে যখন লেখালেখি শুরু করি তখন থেকেই আমি কাজের মাধ্যমে দর্শকদের কিছু না কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি সবসময় সময় চেষ্টা করেছি, দর্শকরা যেন আমার নাটক দেখতে আনন্দ পায়। সবসময় চেষ্টা ছিল ভিন্ন কিছু করার। সেটাই করেছি। আমি শুরুর আগ থেকে মানুষকে নাটক দেখানোর কৌশল বের করছিলাম। যে কীভাবে মানুষকে নাটক দেখানো যায়। সেই পরিকল্পনা থেকেই আরমান ভাই বানানো। আর তাতে আমি সফল।শুনা যাচ্ছে নির্মাতা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখতে চলেছেন? আমি সিনেমার পরিবার থেকে ওঠা ব্যক্তিত্ব। এখানেই থেকে আমার বেড়ে ওঠা। সিনেমা বানানোর আগে একটা বিষয় আমাকে ভয় দিচ্ছে যে, আমি যে সিনেমা বানাবো সেটা দর্শকদের হলে টানবে তো? কারণ আমাদের এই সময়ে সিনেমা দেখার ভালো হল নেই, ভালো পরিবেশ নেই। পরিচালকরা ছবি বানিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছে সেটাতেই ভয়। মাঝে মাঝে শুনি বাইরে থেকে একটা সিনেমা অনেক হিট। কিন্তু ভেতরের খবর পরিচালকের ছবি বানানোর টাকাই উঠেনি। হয়তো ঢাকায় জমজমাট, কিন্তু সেটা কতদিন? এক-দুই সপ্তাহ পর হিট সিনেমাগুলোর হলও খালি। আসলে আমাদের সিনেমা বানানোর আগে পরিমিত হল দরকার। যেখানে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার সুন্দর পরিবেশ থাকবে। এসব নিয়ে খুব ভয় হয়।কবে থেকে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন? সিনেমার পরিকল্পনা প্রায় শেষের দিকে। পরিচালক হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমি ইন্টারভিউ দিয়ে পাশ করেছি। চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে, কুরবানী ঈদের পর টানা তিন মাসে লেখা শেষ করব। সবমিলিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে আমার প্রথম সিনেমার শুটিং শুরু করব।নিজের প্রথম নাটকেই বেশ সাড়া ফেলেছিলেন, প্রথম সিনেমাতেও তেমন কিছুর আশা? আসলে আমি সবসময় নাটকের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার। চেষ্টা করেছি গল্পের ছলে নানা মেসেজ দেওয়ার। সিনেমাতেও সেটা করতে চাই। আমি চাই দর্শকরা যা দেখুক যেন আনন্দ নিয়ে দেখুক। আমার পরিকল্পনা তেমনই।নতুন যাত্রার আগে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কোনো বক্তব্য? সিনেমা বানানোর আগে আমরা সবাই এক কথাই বলি যে, হলে গিয়ে সিনেমা দেখেন। আমার মনেহয় এটা বলা উচিত নয়। দর্শকদের হলে যাওয়ার কথা বলার আগে আমাদের উচিত হলের পরিবেশ ঠিক করা। আমাদের হল কতগুলো! দর্শকদের উদ্দেশ্য আপাতত এতটুকুই বলব যে আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করছি আপনারা আসুন,দেখুন। আপনাদের যদি আনন্দ দিতে পারি তাতেই আমাদের সার্থকতা।(নাবা/৩০ জুন/হিমু) 

    মতামত দিন