আকাশের তৈরি গাড়ি দেখে 'থ' দিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ

  • প্রকাশিতঃ 2019-06-15 15:08:15
আকাশের তৈরি গাড়ি দেখে 'থ' দিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ

বিশ্বের অন্যতম নামি-দামী গাড়ি ‘ল্যাম্বোরগিনি’ চলছে নারায়ণগঞ্জের সড়কে। তবে এটি ইমপোর্টেড নয়, এর প্রস্তুতকারক নারায়ণগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী যুবক। নাম তার আকাশ আহমেদ।

আকাশ আহমেদ ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া এলাকার মো. নবী হোসেনের ছেলে।

নিজের তৈরি গাড়ি সম্পর্কে আকাশ বলেছেন, অত্যাধুনিক আউটলুকের গাড়িটি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। অটোরিকশার ওয়ার্কশপে বসেই ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলে গাড়িটি তৈরি করেছেন।

আকাশ জানান, ছোট বেলা থেকেই নিজের তৈরি গাড়িতে চড়ার শখ। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয় দেড় বছর আগে। অটোরিকশা নির্মাণের গ্যারেজ থেকে বডি তৈরি করতে করতে এক সময় আকাশ তার বাবার কাছে বায়না ধরে গাড়ি বানাবে।

বাবা নবী হোসেন ছেলের ইচ্ছায় সায় দেন। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতালির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে থাকেন তিনি। বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০/২০০ করে টাকা নিয়েই শুরু করেন গাড়ি নির্মাণ কাজ।

ইউটিউবে বডি তৈরি শিক্ষার ভিডিও দেখে ও জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা থেকে ইস্পাতের পাত কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করেন। ল্যাম্বোরগিনির আদলে গাড়ির নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, জোড়াতালি সবই নিজের হাতে তৈরি করেন তিনি।

আকাশ জানিয়েছেন, তার গাড়িতে চাকা আর স্টিয়ারিং হুইলটাই শুধু দোকান থেকে কিনে লাগানো হয়েছে। বাকি সব তার নিজ হাতে তৈরি। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট, ব্যাকলাইট, গিয়ার এসবও তার তৈরি। যা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য। স্বপ্ন পূরণে প্রায় দেড় বছর দিন-রাত আকাশের কর্মযজ্ঞ চলে।

আকাশ জানান, গাড়িটিতে ৫টি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যা প্রায় ১০ ঘণ্টা সাপোর্ট দেবে। চার্জ শেষে ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সময় নেবে ৫ ঘণ্টা। গাড়িতে আসন সংখ্যা দুজনের। দুইজন আরোহী নিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে গাড়িটি। গাড়িটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে ৩ লাখ টাকায়ও বানানো যাবে বলে জানান আকাশ।

আকাশ আরও বলেন, গাড়ি তৈরি করতে গিয়ে দেড় বছরে প্রতিনিয়তই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকটা অনুমান নির্ভর হয়েই অধিকাংশ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য ছিল একটাই, গাড়ি বানাতেই হবে।

ঈদের মুহূর্তে গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের সড়কে নামানোর পরেই অসাধারণ সাড়া পড়ে যায়। গাড়িটি যখন সড়কে চলে সবাই থমকে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে দেখেন। অনেকে হিংসায় বাজে মন্তব্য করলেও তাতে পাত্তা দেন না আকাশ।

আকাশ বলেন, নিজের পরিশ্রমে তৈরি করেছি এই গাড়িটি। গাড়িতে আরও কিছু কাজ বাকি আছে। যেমন গাড়ির দরজাগুলো অটো সুইচের হবে।

গাড়ি নিয়ে পরবর্তী লক্ষ্য বিষয়ে আকাশ বলেন, আমি সরকারের গাড়ি তৈরি ও বাজারজাতের অনুমতি চাচ্ছি। অন্য কারও কাছে আমি এর নকশা বিক্রি করতে চাই না। অনুমতি দিলেই আমার জন্য অনেক বড় সুবিধা হবে।

দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি দেখে ইতিমধ্যে ২৫টি গাড়ি তৈরির অর্ডার পেয়েছি। বাজারজাত করলে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকাতেই মানুষ পরিবেশবান্ধব এই অত্যাধুনিক মডেলের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে। নতুন মডেলের আরো একটি গাড়ি বানানোর পরিকল্পনা আছে বলে জানান আকাশ।

এদিকে আকাশ আহমেদের গাড়ি নির্মাণের কাজে উৎসাহ জোগাতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান। ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়া রেজা হিমেলের মাধ্যমে এক লাখ টাকা আর্থিক দেন অয়ন। আর্থিক সহযোগীতা পেয়ে আকাশ আনন্দ প্রকাশ করেন।

নাবা/১৫জুন/তারেক

    মতামত দিন