৩ বছরের শিশু  ধর্ষণ, বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মির

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ৩ বছরের শিশু-ধর্ষণের মতন এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে  বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে কাশ্মির। গত সপ্তাহে ধর্ষণের শিকার হয় তিন বছর বয়সী ওই কন্যাশিশু। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তাহির আহমেদ মীর নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণ করতে তাহির একটি প্রাইভেট স্কুলের সার্টিফিকেট হাজির করে। জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করছে ওই স্কুলের ওপর। অভিযুক্ত ব্যক্তির কঠোর সাজা দেয়ার  জোরালো দাবি করছে উপত্যকার শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ। গত সপ্তাহে ওই শিশুকে মিষ্টির লোভ দেখিয়ে ত্রাইগাম গ্রামের দূরবর্তী একটি চত্বরে নিয়ে ধর্ষণ করে তাহির। বাড়ি ফিরে শিশুটি বাবা-মাকে এ সম্পর্কে জানানোর পর অভিযুক্তকে পুলিশে ধরিয়ে দেয় তার বাবা। এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেডিক্যাল পরীক্ষায় ওই শিশু ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটক তাহিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ছাড়াও যৌন নিপীড়ন থেকে শিশু সুরক্ষা আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাশ্মিরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজ। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে কাশ্মিরের সব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দল এবং সামাজিক সংগঠন। ধর্ষণের তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন তারা। এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।  আরও বিক্ষোভ এড়াতে মোবাইল ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে শিশু প্রমাণ করতে একটি প্রাইভেট স্কুলের সার্টিফিকেট উপস্থাপন করলে বিতর্ক শুরু হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই স্কুলটি বন্ধের দাবি তোলার পাশাপাশি কয়েকজন স্কুলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ধর্ষণের শিকার শিশুটির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্তের বয়স শনাক্ত করবে। তিনি জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দেওয়া সার্টিফিকেট তারা আমলে নিচ্ছেন না। তবে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর রোষের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ওই প্রধান শিক্ষককে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।সুত্র: এনডিটিভি।

নাবা/তানিয়া রাত্রি