১৯৬৬ সালে নির্মাণ হয় চাঁদপুরে প্রথম শহীদ মিনার

চাঁদপুর: মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরনে ঢাকাসহ সারা দেশের গ্রামগঞ্জে নির্মান করা হয়েছে শত-সহস্র শহীদ মিনার। চাঁদপুর জেলা শহরে ১৯৬৬ সালে প্রথম শহীদ মিনার নির্মান করা হয় চাঁদপুর সরকারি কলেজে। তৎকালিন এ কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জালাল ইউ আহমেদসহ এ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক মিলে সিদ্ধান্ত নেন ’৬৬-র ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি শহীদ মিনার চাঁদপুর কলেজে নির্মাণ করবেন। এর অর্থের যোগান দেন তারাই। সেদিন সারারাত রাজমিস্ত্রী কাজ করে নির্মান করে এই শহীদ মিনারটি। এটি দেখতে অনেকটা ত্রিভুজ পিরামিডের ন্যায়।

এখানে প্রথমে একটি বাগানের ন্যায় রেলিং করা হয়েছে, এর প্রতিটি রেলিং-এর সাইড সাড়ে ১০ হাত। তারপর একটি জায়গা ফাঁকা রেখে পরপর দু’টি সিঁড়ির ন্যায় বেদী করা হয়েছে। প্রথম বেদীটির প্রতিটি সাইড সাড়ে ৭ হাত করে লম্বা, দ্বিতীয় বেদীটির প্রতিটি সাইড সাড়ে ৫ হাত করে লম্বা। দ্বিতীয় বেদীটিতে উপরের দিকে লম্বা করে শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়েছে। এর নীচের অংশটি প্রতিটি সাইড পৌনে ৩ হাত করে। পৌনে ৪ হাত লম্বা হয়ে উপরের অংশে সাড়ে ৭ ইঞ্চি ত্রিকোন করা হয়েছে। আর এর উপরের অংশে একটি লাল টুপির ন্যয় পড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর পুরো অংশ কালো অর্থাৎ অত্যাচার, অবিচার এবং অন্ধকারে রাখার কথা বুঝানো হয়েছে।

অপর দিকে ৩টি দেয়ালের মাঝে বৃওাকারে ও উপরের অংশে লাল টুপির ন্যায় রং দিয়ে রক্ত ঝরা বাংলার কথা বুঝানো হয়েছে। এটি নির্মান করা হয় কলেজ বাগানের ভিতরে এবং পশ্চিম পাশে গেটের দেয়ালটির নিকট। এ শহীদ মিনার নির্মানের মূল পরিকল্পনা, সার্বিক দেখাশুনার পুরো কাজটিই করেন অধ্যাপক জালাল ইউ আহমেদ। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং রোটারি ক্লাবের সাবেক গভর্নর হিসেবে রোটারি ক্লাবের গুরুত্ব দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জানান, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পর চাঁদপুরে ৬৫ সাল পর্যন্ত কয়েকটি ইট দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মান করে তাতেই পুষ্পস্তবক করা হতো। ৬৬ সালে মাত্র একরাতে প্রথম শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়। পরে ১৯৭৭-৭৮ সালে তৎকালীন চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে বিশেষ করে ভিপি শাহজাহান ও জিএস আবদুর রাজ্জাক রাজার প্রচেষ্টায় এ কলেজের খেলার মাঠের পশ্চিম পাশের্^ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে দ্বিতীয় শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়।

২০০৮ সালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পৌর পরিষদসহ সর্বস্তরের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদানের বিনিময়ে স্থানীয় চাঁদপুর রেলওয়ে কোর্ট ষ্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত খাল বালু দিয়ে ভরাট করে এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নমুনানুসারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে চাঁদপুরবাসী ২১ ফেব্রুয়ারিতে এই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও পর্যায়ক্রমে জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে বহু শহীদ মিনার। আর এসব শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এমএমএ/