হুমকি এলে দ্বিগুন গতিতে উচ্ছেদ: ভূমিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  কর্ণফুলী তীরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা সরাতে যে অভিযান কার্যক্রম চলছে তাতে হুমকি এলে দ্বিগুন গতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। বলেন, ‘এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই। হুমকি দিয়ে কেউই পার পাবে না। হুমকি এলে বরং কাজের গতি দ্বিগুণ হবে।’

শনিবার (৯ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দরনগরীর আনুমাঝির ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশের প্রায় দুই বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। ওইদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে থাকা দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও হুমকি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, হুমকি-ধমকি দেবে, কিন্তু এগুলো আমলে নেওয়ার মতো কিছু না। আবার হুমকি দিয়ে কেউ পার পাবে না। এখন আগের বাংলাদেশ নেই। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা অনেক শক্তিশালী। ডিজিটাল প্রযুক্তি আছে।

হুমকি যারা দেবে, তাদের অবশ্যই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ হুমকি দেবে, আর সেজন্য কাজ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন ভাবা যাবে না। হুমকি এলে বরং কাজের গতি দ্বিগুণ হবে। মন্ত্রী বলেন, অনেকেই মনে করছে, উচ্ছেদ শুরু হয়েছে, এরপর মনে হয় আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাবে। সেটা হবে না। আমি নিজে মনিটরিং করছি। কাজ হবেই।

কর্ণফুলীর তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখা হবে না জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ কোনো স্থাপনা থাকতে পারবে না। কেউ কোনো ছাড় পাবে না। আমরা দেশের জন্য কাজ করছি, জনগণের জন্য কাজ করছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করছি।

এসময় ভূমিমন্ত্রী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের উচ্ছেদ কার্যক্রম কখন শুরু হবে সেটা গণমাধ্যমকে দ্রুত জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

পাঁচদিন ধরে টানা অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি খালের মুখও উদ্ধার হয়েছে। তবে এক শিল্পপতির মালিকানাধীন একটি হিমাগার রয়ে গেছে।

মন্ত্রী নিজেই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে বলেন, একটা কোল্ডস্টোরেজ আছে। আমি শুনেছি, সেখানে কয়েক হাজার টন মাছ আছে। আমি প্রশাসনকে বলেছি, তাদের সঙ্গে বসেন। তাদের টাইম দেন। কতদিন সময় লাগবে জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু প্রচুর সময় দেওয়া যাবে না এবং কোল্ড স্টোরেজও থাকতে পারবে না।

অবৈধ কোনকিছুই থাকবে না। কোনটাই ছাড় হবে না। আবারও শো-অফ করার জন্য ধুমধাম করে ভেঙ্গে ফেলব, এমনও হবে না। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। কোনো ব্যবসায়ীর ক্ষতি করা হবে না। ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিকে অবদান রাখছেন। আমরা যে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছি, এতে বরং ব্যবসায়ীদের লাভ হচ্ছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাশাপাশি ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগসহ অন্যান্য অঞ্চলে নদীর পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এমএমএ/