হাজীগঞ্জে ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকের অশালীন আচণের অভিযোগ

হাজীগঞ্জ: হাজীগঞ্জে আহসান হাবিব নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাখিল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য গত শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারী) উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়–য়া বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের ২নং কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থী।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) গণিত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ওই কক্ষের দায়িত্ব পালনকারী কক্ষ পরিদর্শক আহসান হাবিব পরীক্ষার্থীদের সাথে অশালীন বাক্য ব্যবহার, খাতা টেনে-হিঁচড়ে নেয়া, পরীক্ষার্থীদের (ছাত্রী) গায়ে হাত দেয়া এবং থাপ্পড় মারার অভিযোগে এনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন পরীক্ষার্থীরা। যার অনুলিপি কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রদান করেছে তারা।
আহসান হাবিব উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর কাশিমিয়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী। তিনি চলতি দাখিল পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের একজন কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গণিত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কক্ষ পরিদর্শক মো. আহসান হাবীব পরীক্ষার শুরু থেকে বিভিন্ন কথা-বার্তা বলে পরীক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করেন এবং অশালীন বাক্য ব্যবহার করে পরীক্ষার খাতা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে বাজে কথা বলেন। খাতা চাইলে বলেন ২০ মিনিট বা ৩০ মিনিট পরে খাতা পাবে। অনুরোধ করতে গেলে গায়ে হাত দেয় এবং থাপ্পর মেরে বলেন বস, বস। তার কিছু আচরণ লজ্জ্বায় বলতে পারি না। এই অশালীন আচরণের বিষয়টি তাৎক্ষণিক হল সচিবকে অবহিত করা হয়।
উল্লেখিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এহেন আচরনে আর যেন কোন পরীক্ষার্থী ভুক্তভোগি না হয়, তাহার বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন ১৫ জন স্বাক্ষরিত পরীক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে আহসান হাবিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নকলের সুবিধা না পেয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীরা মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার হলে (ওইদিন) যতক্ষন এসিল্যান্ড ছিলেন, তৎখন নকল করতে পারেনি। তিনি (এসিল্যান্ড) চলে যাওয়ার পর, নকলের সুযোগ দেয়ার জন্য, তারা আমার উপর যথেষ্ট চাপ-সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমি কোন সুযোগ না দেয়ায় কেন্দ্র সচিব ও অন্য শিক্ষকগণ আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে এবং আমাকে ডিউটি থেকে আউট করার জন্য সিন্ডিকেট করে, তারা এ কাজটি করেছে।
কেন্দ্র সচিব ও হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়–য়া জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এমএমএ/