হাইমচরে ৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের নেই ভবন, অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে কার্যক্রম

চাঁদপুর:  চাঁদপুর হাইমচর উপজেলা নদী ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চারটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। নদী ভাঙ্গারের ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের নেই কোন স্থায়ী ভবন। অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম।

হাইমচর উপজেলার এই ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা সঠিকভাবে তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানরা অস্থায়ী কার্যালয় তাদের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

হাইমচর উপজেলায় ৬ টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইউনিয়ন পরিষদে দোতলা ভবন থাকলেও বাকি চারটি ইউনিয়ন পরিষদে নেই কোন ভবন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা তাদের অর্থায়নে অস্থায়ী কার্যালয় করে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা চালিয়ে এলাকার জনগণের সেবা দিচ্ছে।

হাইমচর উপজেলার ১ নং গাজীপুর, ৪ নং নীলকমল, ৫ নং হাইমচর ও ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদ নদীগর্ভে গত ত্রিশ বছর পূর্বে বিলীন হয়ে গেছে। তারপর থেকে এই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা অস্থায়ী কার্যালয়ে তৈরি করে সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই ইউনিয়ন পরিষদে নতুন ভবনের জন্য এলাকার জনগণসহ চেয়ারম্যানরা বেশ কয়েকবার সরকারের কাছে জোরালো আহ্বান জানায়।

নদী ভাঙ্গনের কারণে সরকার এই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করেনি বলে জানা যায়।

চাঁদপুর ৩ আসনের এমপি মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় চাঁদপুর হাইমচর মানুষদের নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক  বাঁধ নির্মাণ করেন। তারপর থেকে হাইমচর নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি এই অবহেলিত হাইমচর ৪টি ইউনিয়ন  ইউনিয়ন পরিষদ ভবন যেন নতুন ভাবে করা হয়।

৬ নং চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, চৌচালা ভাঙ্গা একটি টিনের ঘরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম।রাস্তার পাশেই আরেকটি টিনের ঘরে জাটকার চাল রেখে সেখান থেকে জেলেদের চাল বিতরণ করছে।
ইউনিয়ন পরিষদটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর থেকে এভাবে অস্থায়ী কার্যালয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

চরভৈরবী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মাস্টার জানায়, নদীগর্ভে ইউনিয়ন পরিষদটি ভেঙ্গে যাওয়ায় এখানে একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন খুব প্রয়োজন। ভবন না থাকায় জনগণের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন খুব দ্রুত এই ইউনিয়নে জেন একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হয়। এই ভবনটি হলে এলাকার জনগণের সর্বদিক থেকে সুবিধা হবে।

১নং গাজীপুর ইউনিয়নের পরিষদ ভবন না থাকায় বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজী তার নিজ অর্থায়নে একটি ভবন নির্মাণ করে সেখানে অস্থায়ীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ইউনিয়নের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন হাবিবুর রহমান গাজী। তারপরেই সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন গাজী হাইকোর্টৈ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। প্রায় ৭বছর হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলমান থাকার পর অবশেষে রায় নিয়ে এসে শপথ গ্রহণ শেষে হাবিবুর রহমান গাজী এক বছর যাবত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

১নং গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজী জানায়, এই ইউনিয়ন পরিষদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোন ভবন এখানে হয়নি। আমি এই ইউনিয়নের দীর্ঘদিন যাবৎ মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। যারা এর পূর্বে চেয়ারম্যান ছিল তারা বিভিন্ন দোকানে ও মানুষের টিনের ঘরে রাস্তার পাশে বসে কার্যক্রম চালাতো। আমার একটা চিন্তাধারা ছিল কিভাবে মানুষ বসার জায়গা করে দিয়ে তাদের সেবা দেওয়া যায়। আমি এক বছর দায়িত্ব পালন করার সাথে সাথে নিজের অর্থায়নে একটি ভবন নির্মাণ করে অস্থায়ী কার্যালয়ে জনগণদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমি চাই এই ইউনিয়নে যাতে স্থায়ীভাবে একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হয় এটাই এলাকার জনগণের প্রাণের দাবি।

নাবা/এমএমএ/