হত্যা মামলার আসামি ব্ল্যাক শাহীন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

রাজধানীর উত্তরখানে ছুরিকাঘাতে গার্মেন্স কর্মী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মো. শাহীন ওরফে ব্লাক শাহীন (২৪) সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার এলাকায় র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাসেম।

সারওয়ার-বিন-কাসেম বলেন, গত ১৫ জুন বিকালে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর উত্তরখান থানার নদীর পাড় বাটুলিয়া এলাকায় ঘুরতে যায় গার্মেন্টস কর্মী সাকিব। এই সময় ছিনতাইকারীরা সাকিব ও তার বন্ধুর সঙ্গে গায়ে পড়ে বিবাদে জড়ায়। বাগবিতান্ডার একপর্যায়ে সাকিব এবং তার বন্ধুর বুকে ও পিঠে ধারালো ছোড়া (সুইচ গিয়ার) দিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে সাকিবের পরিবার। এরপরে ঘটনা তদন্তে মাঠে নামে র‌্যাব-১।

তিনি বলেন, সাকিব হত্যাকাণ্ডটি ক্লুলেস একটি মামলা। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সবাই ভিন্ন পেশার আড়ালে মাদক সেবন ও ব্যবসা এবং ছিনতাই চক্রের সদস্য। উত্তরার অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান আছে যেখানে নগরবাসী অবসর সময়ে ঘুরতে যায়। তাই এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কয়েকটি চক্র ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নারীদের শ্লীলতাহানীর মতো অপরাধের সঙ্গে ঘটায়। এরা তাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে সাকিব এবং তার বন্ধুকে আটকায়।

ওই ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় মামলার কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিন্তু তদন্তের একপর্যায়ে এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিরা রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন বাটুলিয়া এলাকায় আত্মগোপন করে আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ১৭ জুন রাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে মো. শাহীন মিয়া ওরফে ব্লাক শাহীন (২৪), পিতা- মো. আব্দুল মান্নান ২. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪), পিতা- বিল্লাল হোসেন, ৩. মো. ফরহাদ হোসেন (২৬), পিতা- মো. আওয়ালকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে উত্তরখান থানাধীন আটিপাড়ার পার্শ্ববর্তী কাঠালতলা নামক স্থান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার এবং ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেঠেছ।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান, তাদের গ্রেফতারের পর আমরা জানতে পারি টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যা নিকেতন থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পাশ করার পর পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে শাহীন মিয়া ওরফে ব্লাক শাহীন। সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে আসছে বলে স্বীকার করে। পাশাপাশি সে ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানায় একাধিক ছিনতাই, মারামারি ও মাদক মামলা রয়েছে।

শাহীন জানায়, হত্যাকান্ডের দিন সে অপর জিয়া, তানভীর, রুবেল, মিঠু, সবুজসহ ৭/৮ জন ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবন করছিলো। এসময় মিঠু সাকিব এবং তার বন্ধুকে দেখে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবাইকে নিয়ে তাদের নিকট গিয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে তারা বাঁধা দেয়। এসময় দুই পক্ষের হাতাহাতি হলে রুবেল তার সঙ্গে থাকা একটি সুইচ গিয়ার ছোড়া বের করে। এসময় রুবেলের কাছ থেকে শাহীন ছোড়াটি নিয়ে সাকিব ও শিপনকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এই হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্যদের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

নাবা/ডেস্ক/তারেক