হজ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন কঠোরতা

কা’বা শরীফ। ছবি: সংগ্রহীত।

নিউজ ডেস্ক: হজের মতো পবিত্র বিষয় নিয়ে দেশে যেভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি জেঁকে বসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সক্রিয় সিন্ডিকেটের পাশাপাশি এজেন্সি মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার মুখে সুন্দর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মক্কায় নিয়ে হাজীদের নানা বিড়ম্বনায় ফেলা, হজ ফ্লাইট নিয়ে বিমানের একশ্রেণীর কর্মকর্তার নয়ছয়, এমনকি হজ ক্যাম্পে হাজীদের থাকার জায়গা দখলে নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাস ও সম্মানিত হজযাত্রীদের বারান্দায় ও ফ্লোরে রাত কাটাতে বাধ্য করার মতো অভিযোগ নতুন নয়। এক শ্রেনীর দালালের কারণে এটি বেশী হয়। তারা মসজিদের ইমামের মাধ্যমে মানুষদেরকে টোপের মধ্যে ফেলে এই কাজের সুযোগ নেয়। ইমামদেরকে দেয়া হয় হাজী প্রতি কমিশন।

শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং বেশিরভাগ মুসলমান বছরে একবার যান বলে এজেন্সিগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন না। আল্লাহপ্রেমী মানুষদের এ সরলতাকে পুঁজি করে ব্যবসা, এমনকি দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার সুযোগসন্ধানীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

হজ ঘিরে দুর্নীতি-অনিয়ম কীভাবে জেঁকে বসেছে তা অনুধাবন করার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট- মক্কায় হাজীদের জন্য ভাড়া করা বাড়ির মান কাক্সিক্ষত না হওয়ায় পরিদর্শনে যাওয়া হজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেন।

কিন্তু এজেন্সি মালিক থেকে এক হাজার রিয়াল (২৩ হাজার টাকা) ঘুষ নিয়ে ওই প্রতিবেদন মক্কা থেকেই গায়েব করে দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে স্পষ্ট শুধু ওই এজেন্সি নয়, অন্য এজেন্সির মালিকরাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত করে দুর্নীতি-স্বেচ্ছচারিতা চালিয়ে যাচ্ছে। আশার কথা, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণসাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাজা বাস্তবায়ন করা হলে হজ ঘিরে দুর্নীতি-অনিয়ম কমে আসবে।

জানা যায়, হজযাত্রী সংগ্রহের সময় মক্কার কাছে মানসম্মত থাকা-খাওয়া ও সুষ্ঠুভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতাগুলো আদায়ের সুযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে এজেন্সিগুলো। কিন্তু মক্কায় পৌঁছার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কাবাঘর থেকে অনেক দূরে, মানহীন, এমনকি পাহাড়ের ওপর হাজীদের রাখা হয়। এ ছাড়া দেশে সময়মতো টিকিট ও ফ্লাইটের ব্যবস্থা না করা, এক তারিখের কথা বলে ঢাকায় এনে অন্যদিন ফ্লাইট করানো, এমনকি টাকা নিয়ে চম্পট দেয়ার মতো অভিযোগও হজ মৌসুমে পাওয়া যায়।

এভাবে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ঘটানো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে অবিলম্বে। হজে যাওয়ার উদ্যোগের শুরু থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত হাজীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবি।

এমএমএ/