স্বেচ্ছাশ্রমে প্রস্তুত হচ্ছে ইজতেমা মাঠ

বিশ্ব ইজতেমা মাঠে চলছে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ। ছবি: সংগ্রহীত।

নাগরিক বার্তা ডেস্ক: আগামী শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ জামাতের এই মহাসম্মিলনে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেবেন। এবার ইজতেমা হবে চার দিন। এতে তাবলিগে বিবদমান দুই পক্ষ ভাগাভাগি করে নেতৃত্ব দেবে।

তুরাগ তীরে এখন চলছে ইজতেমার মাঠ প্রস্তুতির কাজ। স্বেচ্ছাশ্রমে কয়েক হাজার মানুষ এখানে রাত-দিন কাজ করছেন। একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা ছাড়া তাদের আর কোনো চাওয়া নেই। তাদের বিশ্বাস, লাখ লাখ মুমিনের একটু আরামের ব্যবস্থা করে দেয়ার এই কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি মিলবে।

ইজতেমা ময়দানে প্রতি বছর কয়েক মাস আগ থেকে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তাবলিগের দ্বন্দ্বের কারণে মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সেই রেষ কাটিয়ে এখন ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতের কাজ চলছে সৌহার্দ্যরে ভিত্তিতে। এখানে তাবলিগের নিয়মিত সাথী, বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আলেম এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কাজ করছেন।

ইজতেমার আয়োজকরা জানান, এবার ইজতেমা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু করতে দেরি হয়। এজন্য এখন তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই মাঠের পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ইজতেমা মাঠে কাজ চলছে পুরোদমে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ময়দানে কাজ করছেন। প্যান্ডেল তৈরি, রাস্তা মেরামত, মাইক টানানো, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ময়দানের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন আগত মুসল্লিরা। ইতিমধ্যে ময়দানের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

ময়দানের পশ্চিম পাশে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। বিদেশি মেহমানদের জন্য তৈরি হচ্ছে পাকা টয়লেট। বিদেশিদের জন্য সবকিছু উন্নত ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা। মুসল্লিদের উচ্ছিষ্ট ময়লা ফেলার জন্য ময়দানের চারপাশে রিংয়ের তৈরি পোর্টেবল ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে।

টঙ্গীর নতুনবাজার এলাকার ব্যবসায়ী তানভীর ইসলাম আসলাম ২৫ জনের একটি দল নিয়ে ময়দানে কাজ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর মেহমানরা ইবাদত-বন্দেগি করতে আসবেন। তারা যেন সুন্দরভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে পারেন সেই দিক খেয়াল রেখে ময়দানের কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিবছরই আমরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠ তৈরির কাজ করে থাকি।

এমএমএ/