স্ত্রীকে ফাঁসাতে নিজের ঘনিষ্ঠ ছবি ফেসবুকে দিলেন পুলিশ স্বামী

স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় সমালোচনায় আসা ঝিনাইদহের পুলিশ সদস্য শাহজালাল রহমান শোভন এবার প্রকাশ্যে স্ত্রী শাহিনা খাতুনের সম্মানহানী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ত্রীর সঙ্গে নিজের যৌন মিলনের ছবি পোস্ট করে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন। শোভন ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনসে কর্মরত।

অভিযোগ উঠেছে, নিজের স্ত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে ফেসবুকে শোভনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট করেন। ওই পোস্টের বিরোধিতা করতে গিয়ে আরফিন শোভন নামক তার ফেসবুক আইডি থেকে স্ত্রীকে দোষি প্রমাণ করতে তিনি এ কাজ করেছেন।

শোভন তার স্ত্রী শাহানার সঙ্গে নিজের যৌন মিলনের ঘনিষ্ঠ ছবি কমেন্টে দিয়ে পরকীয়া বলে চালিয়ে দেন। ফেসবুক কমেন্টে আরো লেখেন, আমি তার গায়ে হাত দিই নাই, পরকীয়া হাতেনাতে ধরাতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, এইগুলো তার প্রমাণ।

তবে মিথ্যাচার ফাঁস হলে শোভন পরে কমেন্টগুলো ডিলিট করে তার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে দেন। এদিকে স্বামীর এমন কুরূচিপূর্ণ কাণ্ডে অস্বস্তিতে পড়েছেন নববধূ শাহিনা।

শাহিনা খাতুুন গণমাধ্যমকে জানান, গত ১২ মে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শেরকান্দি গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে পুলিশ সদস্য শাহজালাল রহমান শোভনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম সাচ্চু মিয়ার মেয়ে।

এ নববধূর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কারণে-অকারণে তাকে মারধর করে পুলিশ স্বামী। গত ১৭ জুন সকালে শাহিনা তার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বললে চটে যায় শোভন। গালিগালাজ ও মারধর করতে থাকে। দুপুরের দিকে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে শোভন।

শাহিনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ধাক্কালে খুলে দেয় শোভন। দরজা খুলে দিলে সে ঘর থেকে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে শোভন তাকে ধারালো বটি দিয়ে তাড়া করে। এসময় প্রতিবেশীরা শোভনকে ঠেকিয়ে শাহিনাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। শৈলকুপা থেকে পরিবারের লোকজন এসে আহত শাহিনাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদস্য শাহজালাল রহমান শোভনের বক্তব্য হচ্ছে, শাহিনার মোবাইল অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকে। মোবাইল এতো ব্যস্ত থাকে কেন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে কোনো জবাব দেয়নি। এ ছাড়াও পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে বাধ্য হন বলে জানান শোভন।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমি শুনেছি শোভন কর্মস্থলে গরহাজির থাকে।’ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এসপি।

নির্যাতিত বধূ শাহিনা খাতুন জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের একটি আদালতে স্বামী শোভনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

নাবা/ডেস্ক/তারেক