সেলিম চেয়ারম্যান ও ছলেমান মাঝি গ্রুপের সংঘর্ষে আবারো রণক্ষেত্র বহরিয়া বাজার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট। নাগরিক বার্তা.কম

চাঁদপুর: সেলিম চেয়ারম্যান ও ছলেমান মাঝি এই দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় আবারো রণক্ষেত্র চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া বাজার।

শুক্রবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টানা দুই ঘন্টার তুমুল সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়। তাদের মধ্য সিয়াম (১৪), জাহাঙ্গীর হাওলাদারসহ (৩৮) ৩ জনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি এবং গুরুতর আহত রশিদ গাজীকে(৫৫) ঢাকা রেফার করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। বাজারের একাধিক দোকানপাট, ছলেমান মাঝির বাড়ি ও স্থানিয় যুবলীগের অফিস ভাংচুর এবং সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ বেপারির বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

খবর পেয়ে পুরাণবাজার, চাঁদপুর মডেল থানা ও ডিবি’র বিপুল সংখ্যক পুলিশ বহরিয়া বাজারে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে ৫৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে এবং ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য জানান।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশিয় অস্রশস্ত্র, লাঠিসোটা ব্যবহার এবং একে অপরের উপর ব্যাপক ইট -পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ  করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,  বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে বহরিয়া বাজারের রাস্তার ওপর মোটর সাইকেল নিয়ে ইউপি চেয়ারমান সেলিম খানের বড় ছেলে শান্ত (১৬) এর সাথে পূর্ব শত্রূতায় স্থানিয় অাওয়ামী লীগ নেতা ছলেমান মাঝি’র ছেলে সাগরের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শান্ত সাগরকে থাপ্পর দেয়। এ ঘটনার জের ধরেই সেখানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগেও ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উল্লেখিত দুই গ্রুপের মধ্যকার তুমুল মারামারি সংঘটিত হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবী, আওয়ামী লীগ সরকারের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে আগামী নির্বাবচন পর্যন্ত সেলিম চেয়ারম্যান ও ছলেমান মাঝিকে বিচারের আওতায় নিয়ে রাখা হউক। তারা আটক থাকলে এলাকায় শান্তি বিরাজ করবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, পুলিশ সময় মত এসে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

এমএমএ/