সেই কাশেমের পাশে ছাত্রলীগ

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ার দরিদ্র এক খামারির ৮০০ হাঁস বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলেছে দুস্কৃতকারীরা। এ ঘটনায় খামার মালিক আবুল কাশেম ও আবুল হাসেম রীতিমতো পথে বসে গেছেন। বেশি সুদে ঋণ করে একটু লাভের আশায় হা*সের খামার দিয়ে ছিলেন দরিদ্র কৃষক আবুল কাশেম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ছবিলা গ্রামের আবুল কাশেম ও আবুল হাসেম যৌথভাবে একটি হাঁসের খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। গত রোববার সকাল সাতটার দিকে তারা প্রতিদিনের মতো খামার থেকে হাঁস বের করে হাওড়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

প্রথমে বাড়ির কাছেই একটি একটি ধান ক্ষেতের পানিতে নিয়ে হাঁসগুলো ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এক একটা করে হাঁস অসুস্থ হতে থাকে। এভাবে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই খামারের ৮ শতাধিক হাঁস মারা যায়।

সঞ্চয়ের সব পূজিঁ খাটিয়ে একটি হাঁসের খামার গড়ে তুলেছিলেন তারা। হঠাৎ ৮০০ হাঁস হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান কৃষক কাশেম। তবে সেই কাশেমের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাসেমকে ৮০০ হাঁস কিনে দেওয়ার।

বিষয়টি জানিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেসবুকে তার আইডি থেকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম।

শারীরিক প্রতিবন্ধী কাশেম ভাই কায়িকশ্রমের কাজ করতে পারেন না বলেই মোটা সুদে ঋণ করে হাঁসের খামার করেছিলেন ভাগ্য ফেরানোর আশায়। কিন্তু বিধি বাম! দুর্বৃত্তদের প্রয়োগ করা বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন প্রায় ৮০০ হাঁস!

আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার অসহায় আবুল কাশেম ভাইয়ের পাশে দাঁড়াব। সারা দেশের লাখো লাখো ছাত্রলীগ কর্মীর মাঝে আমরা ৮০০ কর্মী যদি একটি করে হাঁসের দায়িত্ব নেই, কাশেম ভাইয়ের পরিবার আবার বাঁচার অবলম্বন পাবে। আমি আজ কথা বলেছি তার সাথে, ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে কাশেম ভাইয়ের পাশে থাকবো। দ্রুতই ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে ৮০০ হাঁস কিনে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ মানুষের জন্য ; জীবন জীবনের জন্য।

ওই পোস্টে তিনি কাশেমের মোবাইল নম্বর শেয়ার করে আরও লিখেন, কাশেম ভাই এর একটি বিকাশ নাম্বার বা কোন একাউন্ট নাম্বার কাল জানিয়ে দেয়া হবে ‘ এর আগে খামারের মালিক আবুল কাশেম জানান, তিনি খুব কষ্ট করে দুই লাখ টাকা ঋণ করে এবং ভাতিজা আবুল হাসেমকে অর্ধেক শেয়ারে নিয়ে হাঁসের খামারটি করেছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, হাঁসগুলোর মৃত্যুতে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কি করে যে ঋণ পরিশোধ করবেন এই নিয়ে এখন দিশেহারা।

নাবা/ডেস্ক/রাজু/কেএইচ/