সাকিবের দিনে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

ব্যাটে-বলে আপন ছন্দে জ্বলে উঠলেন সাকিব আল হাসান। একাদিক রেকর্ডে নাম লিখিয়ে করলেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। তাতে বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে আফগানিস্তানকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রাখলো মাশরাফিরা।

সোমবার সাউদাম্পটনের রোজ বোলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ৫১ রানের পর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচেসেরার পুরস্কার জিতেছেন সাকিব আল হাসান। স্বপ্নের সেমিফাইলে উঠতে জিততে হবে বাকি দুটি ম্যাচে। প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তান। আগামী ২ জুন নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ভারতকে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সময় ৩.৪০ অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতেন আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আফগান অধিনায়ক। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দেখে-শুনেই করেন তামিম-লিটন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হন লিটন। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ১৬ রান।

লিটনের পর টিকতে পারেননি তামিমও। মোহাম্মদ নবীর তামিম ফেরেন ৩৬ রানে। এরপর মুশফিককে নিয়ে প্রতিরোদ গড়েন সাকিব। সাবধানী ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৫ তম হাফ-সেঞ্চুরি। পাশাপাশি অনন্য রেকর্ডেও নিজের নাম লেখান সাকিব। ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২৩ রান করে প্রথমে তিনি দখল করেন এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের শীর্ষস্থান। আর নিংসের ২১তম ওভারে দৌলত জাদরানের করা বল ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে ১ রান নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব আল হাসান। রেকর্ড গড়া সাকিব ফিফটি তুলে ফেরে যান সাজঘরে।

বাকি লড়াইটা করেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক। এই ম্যাচেও বাংলাদেশের ইনিংস ধরে রাখেন তিনি। বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে দিয়ে তিনি ফেরেন ৪৮.৩ ওভারে। ফেরার আগে ৮৭ বলে ৮৩ রান। যাতে ছিলো চারটি বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কা। শেষের দিকে মোসাদ্দেকের ৩৫ রানে ভর করে আফগানদের সামনে ২৬৩ রানের টার্গেট রাখে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব উর রহমান ৩টি আর গুলবাদিন নাইব নিয়েছেন ২টি উইকেট।

২৬৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। নিজের স্পেলের প্রথম ওভারেই সেই জুটি ভাঙেন সাকিব। এরপর উইকেটে থিতু হওয়া নায়েবকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। টিকতে দেননি আগের ম্যাচে দুর্দান্ত করা মোহাম্মদ নবীকেও। গুলবাদিন নাইবকে ফেরানোর পর একই ওভারে মোহাম্মদ নবিকে বোল্ড করে বিদায় করলেন সাকিব। এরপর আসগর আফগানকে ফিরিয়ে সাকিব আল হাসান নিলেন নিজের চতুর্থ উইকেট। ফেরার আগে ৩৮ বলে একটি চারে ২০ রান করেন আসগর।

সপ্তম উইকেটে সামিউল্লাহ ও নাজিবউল্লাহ মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। আস্থার সঙ্গে এই জুটি তুলে নেয় ফিফটি। নাজিবউল্লাহ জাদরানকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙলেন সাকিব আল হাসান। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে নিলেন পাঁচ উইকেট তিনি।

সাকিবের স্পিন এড়িয়ে আর বেশি দূর আগাতে পারেনি আফগানিস্তান। ৪৭ তম ওভারে ২০০ রানে থামে আফগানদের ইনিংস। সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়।

(নাবা/ ২৪ জুন/হিমু)