মনসুর আলম খোকন, সাঁথিয়া(পাবনা)প্রতিনিধি | নাগরিক বার্তা

সাঁথিয়ায় পাটের দাম নিয়ে শংকায় কৃষক

পাবনার সাঁথিয়ায় এ বছর পাটের বাম্পার উৎপাদন হওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে কৃষকরা। তবে পেঁয়াজ ও ধানের পর এবার পাটের দাম নিয়ে শংকায় রয়েছে তারা।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাটের বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে দাবী কৃষি বিভাগের। শেষ মুহুর্তে কৃষকরা পাট কেটে পানিতে জাগদেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছর সাঁথিয়া উপজেলায় ৭ হাজার ২শ’ ২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল।

পাট চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরে আবহাওয়া ভালো থাকায় যথাসময়ে জমিতে পাট বীজ বপন করা সম্ভব হয়। অন্য বছরগুলোর মত বৃষ্টির জন্য তাকিয়ে থাকতে হয়নি।কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে পাট বীজ বপনের পর তা থেকে ভালো উৎপাদন পেয়েছেন। কোন প্রকার রোগ বালাই ছাড়াই তারা জমি থেকে অল্প সময়ের মধ্যে পাট কেটে পানিতে জাগদেবে।

চলতি মৌসুমি ভাল পাট উৎপাদন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উপজেলায় ২শত ৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। তবে কৃষকরা পাটের দাম নিয়ে শংকায় রয়েছে। পেঁয়াজ ও ধানের পর তারা পাটের বাজার দাম নিয়ে আতংকিত। চলতি বছরে কৃষকরা পেঁয়াজ ও ধান উৎপাদন করে ভালো দাম না পাওয়ায় তাদের লোকসান হয়েছে।

উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল জলিল, আব্দুল মালেক, যশোমন্ত দুলাইয়ের রফিকুল ইসলাম জানান,পেঁয়াজ ও ধানের মত পাটে যদি যথাযথ বাজার দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আবাদ থেকে আমরা বিমুখ হয়ে পড়ব। পাটের ভালো উৎপাদন হওয়ায় আমরা খুশি।

এদিকে উপজেলার সকল বিলে বৃষ্টির পানি জমতে শুরু করেছে। এই পানিতেই অনেকেই জমি থেকে পাট কেটে জাগদেবে বলে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার,ইসমাইল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে। যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আগামীতে লক্ষ্যমাত্র আরও বেশি অর্জনের জন্য কৃষকদের আমরা সার্বিক সহায়তা করব।

 

নাবা/ডেস্ক/হাফিজ