সন্তানের ক্ষুধা মেটাতে বেকার বাবার দুধ চুরি, অত:পর…

কর্মহীনতা একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষকে কতটা নিরূপায় করতে পারে মাঝে-মধ্যেই নানা ঘটনার কারণে তা সমাজের সামনে চলে আসে। শুক্রবার (১০ মে) এ সংক্রান্ত এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এলাকায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়েছে।

পোস্টের সারমর্ম অনেকটা এমন- বেকার বাবা তার সন্তানের ক্ষুধা মেটাতে অক্ষম। উপায় না পেয়ে একটি সুপার শপ থেকে দুধ চুরি করার সময় ধরা খেয়েছেন, হচ্ছিলেন লাঞ্ছিত। শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পোস্টে ডিএমপির এই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে মর্মে প্রকাশ পেলে অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন বলে জানান এসি জাহিদুল।

পাঠকের সুবিধার্থে ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:-

‘গতকাল রাত আনুমানিক ৮.৪৫ মিনিট। বাকি সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি তদারকি করছিলাম। হঠাৎ এক জায়গায় মানুষের হট্টগোল দেখতে পেলাম। ঘটনা কি তা দেখার জন্য আমার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠালাম। কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু লোক ২৫-৩০ বছর বয়সী একজন লোককে টেনে-হিঁচড়ে আমার সামনে নিয়ে আসলো। ঘটনা জানতে চাইলাম।

একজন বলল, ‘স্যার, লোকটা চোর, চুরি করে পালাচ্ছিল।’ পাশে লোকটাকে শক্ত করে ধরে রাখা এক সিকিউরিটি গার্ড আমাকে বলল, ‘স্যার, লোকটা স্বপ্ন সুপার শপ থেকে চুরি করে পালাচ্ছিল।’

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি চুরি করেছে? সিকিউরিটি গার্ড বলল, ‘স্যার, সে এক প্যাকেট দুধ চুরি করে পালাচ্ছিল।’ আমার খটকা লাগল, আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘দুধ’? তখন সিকিউরিটি গার্ড অতি উৎসাহ নিয়ে বলল, ‘স্যার বাচ্চাদের ন্যান দুধের প্যাকেট।’ আমি লোকটার দিকে তাকালাম। আমার বয়সেরই হবে। দেখতে ভদ্রলোকই মনে হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চুরি করলেন কেন? সে কেঁদে ফেলল। তারপর বলল, ‘স্যার, তিন মাস হলো চাকরি নাই, বেতন নাই। ঘরে ছোট বাচ্চা, দুধ কেনার টাকা নাই।’

সাথে সাথে আমার ছেলের চেহারা মনে পড়ল। মনে হলো কতটা নিরুপায় হলে একজন বাবা এই কাজ করতে পারে। ওর জায়গায় আমি থাকলেও হয়ত একই কাজ করতাম।

সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম, দুধের প্যাকেটের দাম কত? সে বলল, ৩৯০ টাকা স্যার। আমি তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিল রাখতে বললাম এবং লোকটিকে ছেড়ে দিতে বললাম।’

এ সংক্রান্তে এসি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন- ফেসবুকে পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর কমেন্টের মাধ্যমে এবং ফোনে অনেকেই ওই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওই লোকের সঙ্গে আজকেও (১১ মে) যোগাযোগ হয়েছে। তার একটি চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

নাবা/১১ মে/তারেক