শ্রমিকের প্রতি শুভদৃষ্টির উদয় হোক।

 

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর লাখ লাখ শ্রমিক এখনও অবহেলিত। ইটের উপর ইট গেঁথে, যাদের ঘামের স্রোতে দাড়িয়ে আছে আমার দেশের পুজিঁ। শ্রমিকের রক্তে যাদের অট্টালিকা, সুখ সম্বৃদ্ধি তাদের বিষয়ে কেন এত উদাসিনতা? নিরাপত্তাহীনতার মাঝে এ দেশের শ্রমিকেরা কাজ করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে নারী ও শিশু শ্রমিকেরা। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে, অমানবিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে তারা দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ করে গার্মেন্টস মালিকরা শ্রম আইনের কোন নিয়ম মানেন না। কোন কোন ক্ষেত্রে আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ নাই। শ্রমিকের উপযুক্ত মজুরি না দেয়া, সাপ্তাহিক ছুটি না দেয়া, বাধ্যতামূলক ভাবে অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেয়া, মাতৃত্ব ছুটি না দেয়া  যেন তাদের একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ  শ্রম আইনের ৩৪ নং অনুচ্ছেদ শ্রমিক রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত। এখানে জবরদস্তি ভাবে কাজ করানো নিষিদ্ধ। এ অনুচ্ছেদও মানা হচ্ছেনা। ২০০৬ সালের শ্রম আইন পাস করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছেনা বরংমজুরি পার্থক্য, ছুটিহীন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখনও বিরাজমান।

আন্তজার্তিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শ্রমিক অধিকারের কিছু আইন প্রনয়ন করেছে। বাংলাদেশ তা গ্রহণ করলেও কার্যকর করেনা। আসলে আমাদের দেশে শ্রমিক বান্ধব আইন নাই , কাজের পরিবেশ নাই আর যে আইন আছে তা রাজনীতির কারনে বাস্তবায়ন করা যায়না। আর শ্রমিক নেতারাও সুবিধাবাদী, শ্রমিকদের জন্য কাজ করেন না।

এছাড়াও আছে নারী পুরুষের শ্রম বিভাজন। নারীর ক্ষমতায়নের এ দেশে বঞ্চিত  হচ্ছে নারী শ্রমিকরা। শ্রমবাজারে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও তাদের যথাযথ মুল্যায়ন করা হচ্ছেনা। শ্রমের মূল্যের পার্থক্য ছাড়াও নানারকম হয়রানীর শিকার হয় তারা। পরিশ্রম সমান করেও বেতন কম পায়। তাছাড়া অসুস্থ বা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলেও তাদের বেতন কাটা যায়। নারীর ক্ষমতায়নের সমতায়নের বিষয়টিও আইএলওর কাগজ কলমে। বাস্তবায়ন নাই। আমাদের দেশের অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহন ইতিবাচক  কিন্তু তারা অবমূল্যায়িত। যা দুঃখজনক। বিশেষ করে গৃহস্থালীর কাজে নারীর কোন মূল্যায়ন নাই। এমন কি অসুস্থ হলেও ঠিকভাবে তাদের মূল্য দেয়া হয়না।

আজ মহান মে দিবসে  অনেক সেমিনার হল, র‌্যালি হল। আলোচনা অনুষ্ঠান হল। অথচ কাল থেকেই শুরু হবে প্রতারনা। শ্রমিক কে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। কোম্পানীর মালিকরা নিজের স্বার্থে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে পারে কিন্তু শ্রমিক কে তার উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে পারেনা। একশ দুশো টাকা বেশী দিতে গেলেই তাদের সমস্যা।

মহান মে দিবসে আমাদের একমাত্র কামনা শ্রমিক কে তার ন্যায্য মূল্য দেয়া হোক। শ্রমিকের প্রতি শুভদৃষ্টির উদয় হোক। নারী শ্রমিক ও পুরুষ শ্রমিকের পার্থক্য দূর হোক।