লোপাট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা, দুদক ব্যস্ত প্রাইমারি নিয়ে

ঢাকা: যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোচিং সেন্টার নিয়ে শুনানিকালে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানিকালে আদালত বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বড় বড় রাঘব বোয়ালদের ধরে এনে ছেড়ে দিচ্ছে, আর স্কুল শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না তা নিয়ে ব্যস্ত দুদক।

দুদক দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না উল্লেখ করে আদালত বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যেতে পারছে না কিন্তু দুর্বলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ছোট দুর্নীতির আগে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

দেশের উচ্চ আদালতের বিচারকগণ যখন দুদকের কাজের এ ধরণের মন্তব্য করেছেন। তাহলে আসলেই দুদক চেয়ারম্যান কি নিয়ে কাজ করছেন এমন প্রশ্ন দেশবাসীর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সচেতন নাগরিকরা অনেকেই মন্তব্য করে বলছেন, অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়ে বলছেন আমি ঋণের টাকা উত্তোলন করবো। ঋণের পাহাড় হয়েছে। সরকারি চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী হতে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন হাজার কোটি টাকার মালিক। দু’একজন কু-কর্ম মিডিয়া সামনে আনলেও চাপা পড়ে আছে বড় বড় রাগব বোয়ালরা। দুদক ওই ধরনের লোকদের আশপাশেও যান না।

অনেকে বলছেন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, দালালী, ভূমি দস্যুতা ইত্যাদিতে ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এর সাথে জড়িত রাজনৈতিক প্রভাবশালী, সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের অসৎ ব্যাক্তি ও ভূমি সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর কিছু অসাধু লোক। তাদের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ভূমির সাথে সংশ্লিষ্ট লোকগুলো কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে দুর্নীতি করে। দুদকের উপস্থিত এসব স্থানে খুবই কম।

অপরদিকে এখন আবার শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী থেকে বালু উত্তোলন। বালু দস্যুরা সিন্ডিকেট তৈরী করে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। যার ফলে নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে ওইসব এলাকার মানুষ। এদের বিরুদ্ধে দুদকের উপস্থিতি কিংবা ব্যবস্থা গ্রহন চোখে পড়ছে না।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে যেসব দুর্নীতি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে সেসব স্থানে দুদক কাজ করা অতিব জরুরি হলেও দুদক আছে প্রাইমারী স্কুলে। দুদক চেয়ারম্যান নিজেই কয়েকদিন আগে বলছেন দুর্নীতির সাগরে তিনি কি করবেন। সাগরে হাবুডুবু খাওয়া দুদক চেয়ারম্যান অবশ্যই প্রাইমারী স্কুলে না গিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করে বড় বড় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করা উচিৎ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে বড় দূর্নীতিবাজদের ধরলে ছোট গুলো এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে অনেকের মন্তব্য।

এমএমএ/