রিফাত হত্যার নেপথ্যে…

স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কয়েক যুবক উত্ত্যক্ত করতো। তারই প্রতিবাদ করায় স্বামী রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে খুন করলো সেই দুর্বৃত্ত যুবকরা।

বুধবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে বের হন রিফাত। বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এলে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড এবং তার প্রতিবেশী দুলাল ফরাজীর ছেলে রিফাত ফরাজী।

সেই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

মিন্নি বলেন, বিয়ের পরও নয়ন বন্ড আমাকে বিরক্ত করে আসছিলো। বিষয়টি আমি আমার স্বামীকেও জানিয়েছিলাম। গতকাল (বুধবার) সকালে আমি কলেজে যাই। রিফাত আমাকে কলেজ থেকে আনতে গিয়েছিলো। আমরা কলেজ থেকে বের হই। কলেজের গেটে ওঁৎ পেতে থাকা কিছু সন্ত্রাসী এ সময় রিফাতকে কলেজ গেট থেকে টেনে নিয়ে নয়ন বন্ড ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কাছে নিয়ে যায়। তারা রিফাতকে আক্রমণ করে। মারার চেষ্টা করে। আমি অনেক চেষ্টা করেও ফেরাতে পারিনি। রাম দা নিয়ে আক্রমণ করে। আমি অনেক চেষ্টা করছি, অস্ত্র ধরছি, তাদের ধরছি, চিৎকার করছি। কেউ আগায়া আসে নাই। কেউ আমারে একটু হেল্প করে নাই। আমি একলা হাসপাতালে নিয়া গেছি।’

তিনি দাবি করে, রিফাতকে যখন দুই তিনজন রাম দা নিয়ে কোপাচ্ছিল, তখন আশপাশে এদের সহকারীরা দাঁড়িয়ে ছিলো। ওই ছেলেগুলোই প্রথমে রিফাতকে মারধর করেছিল।

এদিকে, রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা দুলাল শরীফ। এ মামলার ৪নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

নাবা/ডেস্ক/ওমর