রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হেরে যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!

একটি নতুন প্রজাতি বাংলাদেশে বিরাজ করছে। তারা রাজাকার বা শিবির নয়, তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে স্পষ্ট ঘৃনা করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের কথা উঠলেই বলে ৪৮ বছর আগের পুরানো ঘটনা টেনে আনার দরকার কি? মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা আত্মপরিচয়হীন এই সম্প্রদায় এর কোন নাম নেই। আবার এরাই নাকি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ! এদের সংখ্যা অনেক, এটাই ভাবনার বিষয়। আসলে আমরা একটি দূর্ভাগা জাতি। যার কারণে রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হেরে যায় মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। নিরব থাকে দেশ আর মুক্তিযোদ্ধারা ।

নতুন এই সম্প্রদায় শিবিরের বিভিন্ন ইউনিট বা গোত্র। এরা অনেক গোছানো। জামাত জানে আওয়ামীলীগ আসলে তাদের অস্তিতের সংকট হবে তাই তারা ভিন্ন ভিন্ন ইউনিট গঠন করেছে। যারা ছাত্র লেবাসে থাকবে কিন্তু জামাতি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে।

এই সম্প্রদায়েরই একজন ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কোটা আন্দোলনকারীদের নেতা। কোটা আন্দোলনকারীদের সবাই যে শিবিরের প্রডাক্ট এটি প্রমানিত। যাদের উদ্ধেশ্য কোটা সংষ্কার নয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিলুপ্ত করা। নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি কোটা আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে যাদের অবস্থান, তাদের একজন এই স্বাধীন দেশে ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব কিভাবে দেবে? এই দেশ বিরোধী অপশক্তি কে ছাত্ররা কি বুঝে নির্বাচিত করল?

ঢাবির মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরা নির্বাচন করার সাহস পেল কাদের কল্যাণে? আর সেই সাথে ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হল ছাত্রলীগ একটি পরিকল্পনাবীহিন দল। নুরু প্রার্থী হবে এটি জানার পরই তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করা উচিত ছিল। কোটা আন্দোলনকারীরা যে শিবির পন্থী এটাতো আগে থেকেই সবার জানা। ওরা মুক্তিযোদ্ধা কোটা তুলে দেয়ার আন্দোলন করে সফল হয়েছে।

সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী এদের রাজাকারের বাচ্চা উপাধি দিয়ে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি শুনলেই এদের গায়ে জ্বালাপোড়া হয়। চেতনা ব্যবসায়ী বলে কটাক্ষ করে! আজ যে এদেরই একজন ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব দেবে এর দায় ক্ষমতাশীন দল কে নিতে হবে।

আাবার শোনা যাচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবী জানাচ্ছে ছাত্ররা। তাদের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন রাখছি নতুন করে যদি আবার নির্বাচন হয় তাহলে কি তারা নুরু কে প্রার্থী হিসেবে মেনে নেবে?

তবে একটি কথা না বললেই নয়, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে যদি এই গোত্রহীনদের সংখ্যা বাড়ে। ঠিক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধাদের যে করুন পরিনতি হয়েছিল, এখন এ সম্প্রদায়ের হাতে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির সেই রকম করুন পরিনতি হবে। আর এদের সংখ্যা বাড়বেই, কারণ বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট প্রথম শ্রেনীর বুদ্ধিজীবী বলেছেন, ‘নবনির্বাচিত ভিপির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখতে পাচ্ছেন।” মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে যারা কথা বলেন তাদের বোঝা উচিত জাতি প্রায় তিন যুগ অন্ধকারাছন্ন অবস্থায় ছিল। আর এ সুযোগে এই অপশক্তি সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষবৃক্ষের মত ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আমাদের আসল লড়াই এদের বিরুদ্ধে।

নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/