রক্তে ভেজা শার্ট

ছবি: নাগরিক বার্তা.কম

— মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বিপ্লব

চারিদিকে গোলা গুলির বিকট শব্দ,
খোকা মায়ের মুখ পানে চাহি যেন নিস্তব্ধ।
মা কহিল,
ওরে খোকা আয়, আমায় ছাড়ি যাস নে বাপু,
ওই চাহি দেখ তাণ্ডবে মাতিয়াছে পাষণ্ড রিপু।

খোকা কহিল,
মাগো বন্দীশালায় ভীতাতুরে হইয়া আর কতকাল?

কান পাতিয়া শুনো তূর্য বীণায় বাজিল বুজি  মুক্তির স্লোগান।
কেমনে বসিয়া থাকি বল তোমার আঁচলখানি ধরে,
নিপীড়িত হাহাকারে হৃদপিন্ডের প্রতিটি কল যে নড়ে।
মা কহিল,
ওরে অবুঝ খোকা আমার, তোর মুখে আজি বিদ্রোহী বাণী,
তোকে ছাড়ি কি নিয়ে বাঁচিবো বলে আঁচলে ডাকিলো মুখখানি।
খোকা কহিল,
মাগো যদি রাখো আমার মাথায় আর্শীবাদের হাতখানি,
দেখিবে জাতি তোমার খোকা ই  অকুতোভয় বীর সেনানী।
মা কহিল,
নতুন সূর্য উঠিলো অাকাশে, দামাল ছেলেরা জয়ের উল্লাসে,
স্বাধীনতার বিজয় কেতন উড়িয়ে খোকা আসছে মমতার কোলঘেঁষে।
কিন্তু না!
নব অরুণোদয়ের  স্বপ্নীল বাসনায় উজ্জীবিত পতাকা হাতে,
ফিরেনি খোকা আর গিয়েছিল যে  অকাল রাতে।
খোকার দোসর কহিল,
জননী, পাক হানাদের রণতরী সে ডুবাইয়া দিয়া আছে ঘাটে,
চাহি দেখো, চারিধারে আজি তোমারি জয়ধ্বনি
খোকার রক্তে ভেজা শার্টে।
আজি বহু বছর পেরিয়ে মোরা স্বাধীনতার নীড়ে,
খোকা হারানো সেই জননী কে পাহিয়াছি হাজারো লোকের ভীড়ে।
মা কহিল,
মরিয়া খোকা আমার, জাতির লাগি রহিয়াছে অমর,
মমতার আঁচল বিছিয়ে প্রতীক্ষিত কবে আসিবে ১৬ই ডিসেম্বর।

নাবা/এমএমএ/