যুক্তরাজ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর কে নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। তবে নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ব্রেক্সিটকে প্রাধান্য দিচ্ছেন নেতারা।এমপি ররি স্টিওয়ার্ট বলেন, তিনি বরিস জনসনকে সমর্থন দেবেন না। কারণ তিনি চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে পঞ্চম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককের নাম সামনে এসেছে। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ মে সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে শুক্রবার কান্নাভেজা চোখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আগামী ৭ জুন তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার অর্থ তাকে প্রধানমন্ত্রিত্বও ছাড়তে হবে।

জুলাইয়ের মধ্যেই নতুন নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে কনজারভেটিভ পার্টি। যতদিন দলীয় প্রধান নির্বাচিত না হবে ততদিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন মে। মে যে সপ্তাহে পদত্যাগ করবেন ওই সপ্তাহেই নতুন দলীয় প্রধান নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ বিষয়ে টোরি ব্যাকবেঞ্চ ১৯২২ কমিটির প্রধান গ্রাহাম ব্রাডির সঙ্গে একমত হয়েছেন মে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অন্য চার প্রার্থী হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ররি স্ট্রিওয়ার্ট, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন এবং সাবেক শ্রমবিষয়ক মন্ত্রী এস্থার ম্যাকভি।

নিজে প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও এ তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদের নামও শোনা যাচ্ছে। আরও  এক ডজন নেতা দলীয় প্রধান হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামার বিষয়ে ভাবছেন।  যাদের একজন গ্রাহাম ব্রাডি, যিনি টোরি ব্যাকবেঞ্চ ১৯২২ কমিটি প্রধানের পদ ছাড়ার কথা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই প্রতিযোগিতায়  নামবেন না বলে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমান শ্রমবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাম্বার রাড।

তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘মনে হয় না এখনও আমার সময় এসেছে।’ নিজে না নামলেও বরিসকে সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাড বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে আগেও কাজ করেছি, আমরা একসঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।’প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন পদ্ধতি : টোরি এমপিরা আগামী ১০ জুনের মধ্যে নিজেদের নাম জমা দিতে পারবেন।

যে কোনো এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারবেন। শুধু পার্লামেন্টে তার  দু’জন সহকর্মী তাকে সমর্থন দিলেই হবে। তারপর শুরু বাছাই প্রক্রিয়া। এমপিদের ভোটে বাদ দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত দু’জনকে রাখা হবে। এরপর দলের সব সদস্য ভোট দিয়ে একজনকে বেছে নেবেন। গত বছর মার্চের হিসাব অনুযায়ী, কনজারভেটিভ পার্টির মোট সদস্য এক লাখ ২৪ হাজার।  সুত্র: বিবিসি।

নাবা/ডেস্ক/ তানিয়া রাত্রি