মৃত্যুর জন্য দায়ী কে

ঢাকা এখন একটি অগ্নি শহরের নাম । চুড়িহাট্টা, বনানী, গুলশান, এলিফ্যান্ট রোড ও ধানমন্ডি। নিমতলী, চুড়িহাট্টা, তাজরিন হয়ে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে প্রবেশ করেছে আগুন। এফ আর টাওয়ারের বিষন্নতা কাটতে না কাটতেই আাগুন চলে এল গুলশানে। কেন এই ধারাবাহিক অগ্নিকান্ড। নানা মুনীর নানা মত। আসল কারন হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা তারা যখন একটি বাড়ী নির্মানের অনুমতি দেন তখন ভবন টি কতখানি নিরাপদ হবে এটি বিবেচনা করেন না । অনেক ক্ষেত্রে রাজউক কে কিছু ঘুস প্রদান করে ভবন নির্মান করা হয়।
তবে এগুলো ছাড়াও আারো কারন রয়েছে । গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের কথাই ধরা যাক ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি একবার ভয়াবহ অগ্নিকান্ড হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তদন্ত কমিটি কিছু ব্যবস্থা নিতে বলেছিল।

কিন্তু মার্কেট কতৃপক্ষ সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি।। আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে আবারও মার্কেটটি চালু করা হয়। দমকল বিভাগের কোনও সতর্কতাকে পাত্তা দেননি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।২ বছর আগে যদি সচেতন হতেন তবে আজকের এইদিন দেখতে হতনা।
বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে ২৫টি প্রান চলে গেল। আর ঘটনার পর রাজউক, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন দফতর বলতে শুরু করেছে ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ কিংবা কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ভবন নির্মাণ বিধিমতো হয়নি। এমন অভিযোগ চুড়িহাট্টা, নিমতলীসহ সব অগ্নিকান্ডের সময়েই তারা বলেছে।

এখন তাদের কাছে একটা প্রশ্ন এই ভবন গুলো শহরের মধ্যেই ছিল। কেন রাজউক আর সিটি করপোরেশন এই অনিয়ম গুলোর দিকে নজর দিলেন না?
এই ভবন নির্মানের অনুমোদন তো রাজউকই দিয়েছে। তারা কি এই স্থাপনা বা ভবন পরিদর্শন না করেই নকশার অনুমোদন দিয়েছেন? আর ভবনগুলো নির্মান শেষে রাজউক একবারও পরিদর্শনের সুযোগ পেলনা? তাদের নাকি পর্যাপ্ত লোকবল নেই। তাহলে কীভাবে এত বড় নগরের দেখাশুনা করবেন তারা? এটি একটি অযৌক্তিক অজুহাত।
আমরা কখনও দেখিনা কোন অব্যবস্থাপূর্ন ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক কোন ব্যবস্থা নিয়েছে। বরং অসংখ্য প্রমাণসহ অভিযোগ রয়েছে– রাজউক, সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদফতরের কতিপয় কর্তাদের ছত্রছায়ায বিধি না মেনে ভবন বা স্থাপনা তৈরি হয়েছে।

যার কারনে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ডের পর গঠিত তদন্ত কমিটির নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে পুনরায় আগের মতোই চলতে থাকে বসবাস ও ব্যবসা। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনও কোনও ভবন মালিকের নাম উচ্চারণ করার সাহসও তো রাজউক, দমকল এমনকি গণমাধ্যমের ক্ষমতায় থাকেনা । কারন তারা ক্ষমতাধর। চারতলার ভিত দিয়ে তৈরি করেন আটতলা।

একই ভবনে দশ রকমের বাণিজ্যিক কার্যালয়কে ভাড়া দিয়ে টাকা নেন । কখনও টাকা, কখনও ক্ষমতার দাপট ও লোভে অনেক অনৈতিক ফাইলে সই করে রাজউক।
এছাড়াও আছে আমাদের অসচেতনতা। আমাদের কাজের জায়গা ,বা বসতবাড়ি কি সুরক্ষিত? অগ্নিকান্ড কিংবা ভূমিকম্পের সময় দ্রুত নেমে যাওয়ার সিঁড়ি আছে কয়টি বাড়ি ও অফিসে?

দমকলের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স সহজে আসতে পারবে এমন কয়টি গলিপথ আছে এই শহরে? আজ কে এফ টাওয়ার বা গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের ঘটনায় শহরবাসী যতই শোকে বিধ্বস্ত হোকনা কেন ওই শোকের রেশ কাটলে তারা আবার নতুন করে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার পথে যাবে। কাজেই আমাদের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী?
সবশেষে প্রশাসনের উদ্ধেশ্যে বলি অগ্নিকান্ডের পর ভবন নির্মানে অনিয়ম, সড়ক দূর্ঘটনার পর লাইসেন্সবিহীন গাড়ি, সেই সঙ্গে দূর্ঘটনার পর তদন্ত এই সংষ্কৃতি থেকে বের হয়ে আসুন। যা তদন্ত করা বা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া দুর্ঘটনা ঘটার আগে করুন ।