‘আত্মহত্যা নয় হত্যা করা হয়েছে মা, ছেলে-মেয়েকে’

রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় ছেলেকে গলা কেটে হত্যা এবং মা ও মেয়ের শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।

আজ সোমবার (১৩ মে) দুপুর ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে ময়না তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘উত্তরখানে নিহত মা ও তার দুই সন্তানের লাশ থানা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর পর লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত শেষ করেছি। ময়না তদন্ত কালে আমরা দেখতে পাই নিহত মায়ের গলায় এবং পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মা এবং মেয়েকে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আর ছেলেকে গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মায়ের আনুমানিক বয়স ৪৮, মেয়ের বয়স ২০ এবং ছেলের বয়স ২৮ বছর।’

ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ময়না তদন্ত শেষে বিভিন্ন নমুন সংগ্রহ করেছি। এটি একটি পরিস্কার হত্যাকান্ড কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের একটি টিমকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পাঠানো হবে। এর পরে বলা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা। তাছাড়া আমাদের হিসেব মতে প্রায় ৭২ ঘন্টার বেশি হয়েছে তাদের মৃত্য হয়েছে। তাই যে নমুনা গুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলোর রিপোর্ট এবং ঘটনা স্থল পরিদর্শন শেষে বলা যাবে তাদের সাথে আসলে কি হয়েছে।’

এদিকে চিরকুটের বিষয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দাবি নিহতদের সাথে এমন কোন কিছু ঘটেনি। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। বিভিন্ন সময়ে তাদের সাথে কথা হতো। এমন কি মাসে মাসে তাদের কে খরচ দেওয়া হতো। তাদের দাবি নিতহ পরিবারের ছোট মেয়েটি ছিলো মানুষিক প্রতিবন্ধি। তাকে নিয়ে সবাই বিরক্ত ছিলো। সে নানা ভাবে বাসার সবাইকে জ্বালাতন করতো।  এছাড়া আর তাদের পরিবারে আর কোন সমস্যা ছিলো না বলে জানান নিহতদের স্বজনরা।

উল্লেখ্য, এর আগে রোববার (১২ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়নারটেক এলাকার একটি বাসা থেকে মা জাহানার খাতুন মুক্তা (৪৭), ছেলে মুহিব হাসান রশি (২৮) এবং প্রতিবন্ধী মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিমের (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়।

 

নাবা/ডেস্ক/রাজু