মামলার সংখ্যা বাড়াতে যা করছেন সার্জেন্ট সোহেল রানা…

 

পাঠাও চালক শাহিন আহমেদ। যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন রামপুরা হয়ে হাতিরঝিলের দিকে। দুজনের মাথায়ই হেলমেট ছিলো। কাগজপত্রও ছিলো ঠিকঠাকা। কিন্তু বিপত্তি বাধে অন্যখানে। রামপুরা থেকে হাতিরঝিলে টার্ন নেওয়ার সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কারণে জ্যামে আটকা পড়েন শাহিন। এসময় যাত্রী কিছুটা স্বস্তি পেতে কয়েক মিনিটের জন্য মাথার হেলমেটটি খুলে হাতে রাখেন। ঠিক এসময়ই তাদের দিকে এগিয়ে আসেন ট্রাফিক সার্জেন্ট সোহেল রানা। চালক শাহিনের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে ঠুকে দেন মামলা। এরই মধ্যে যাত্রী তার হেলমেটটি আবার মাথায় পড়ে নেন।

চালক শাহিন মামলার কারণ জানতে চাইলে ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন ফেব্রুয়ারী মাসে সর্বাধিক মামলা দিয়ে পুরস্ককার প্রাপ্ত সার্জেন্ট সোহলে রানা। শুরু করেন অকথ্য ভাষায় গালাগালি। চালক শাহিন এর প্রতিবাদ করলে শারিরীক ভাবেও লাঞ্ছিত করা হয় তাকে।

আজ সোমবার সকালে এ ঘটনার সময় এক পথচারী দূর থেকে ছবি তোলেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। যা তিনি পরবর্তীতে তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। ছবি তোলার দায়ে ওই পথচারীকেও শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মোটরসাইকেল চালক শাহিন আহমেদ নাগরিক বার্তাকে জানান, ‘তিনি সকালে পাঠাও রাইডে একজন যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় হাতিরঝিলের জ্যামে পড়লে তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে সিগন্যাল ছাড়ার অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় গরমের কারণে শাহিন এর সঙ্গে থাকা যাত্রী মাথা থেকে হেলমেট খুলে আবার পড়েন। এমন সময় পুলিশ সার্জেন্ট সোহেল রানা এসে তাকে কাগজ বের করতে বলেন। চালক শাহিন কাগজ বের করলে পুলিশ সার্জেন্ট সোহেল রানা তাকে একটি মামলা দিয়ে দেয়। অকারণে মামলা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সার্জেন্ট সোহেল চালক শাহিনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। শাহিন গালাগালির প্রতিবাদ করায় সার্জেন্ট সোহেল শাহিনকে মারধর করে। এ সময় পাশ থেকে একজন পথচারি ভিডিও করায় তাকেও পেটায় পুলিশ সার্জেন্ট সোহেল রানা।

পুলিশ সার্জেন্টের এমন আচরণের বিষয়ে রামপুরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফাহমিদা আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। জরুরি একটা কাজে ডিসি অফিসে এসেছি। সাংবাদিকদের থেকে অল্প কিছু জেনেছি। আমি অফিসে গিয়ে পুরো ঘটনা জানবো। যদি এই ঘটনায় কেউ দোষী হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাবা/রাজু/এনএম