মানুষ বেঁচে থাকতে হয় জীবনের অদৃশ্য প্রয়োজনে

আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটা গল্প আছে। অতীতে ফিরে গিয়ে গল্পের শুরুটা কখনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা গল্পের শেষটা চাইলেই নতুন করে সাজিয়ে তুলতে পারি।জীবনের বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। এটাই জীবন। জীবনের বাস্তবতার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যতই নিষ্ঠুর হউক বা যতই কষ্ট হউক তা সয়ে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনেই। জীবনে কষ্ট আসলে মানসিক ভাকে যতটুকু আমরা ভেঙ্গে পড়ে থাকি,তাতে করে আমাদের জীবন দ্বিগুন পিছিয়ে যাবে। জীবনের সকল দূঃখ কষ্ট ও বাস্তবতাকে জীবনের অংশ হিসাবে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করার নামই হচ্ছে সুখ।

কথায় বলে, একটি সুন্দর উক্তি রত্নের চেয়েও মূল্যবান।একটি চমৎকার উক্তি দুর্বলকে যোগায় শক্তি, দিশেহারাকে দেখায় পথ,অন্ধকারে জ্বালায় আলোর মশাল। হতাশা, ব্যর্থতা, গ্লানির তিক্ত অনুভূতিগুলো যখন ঘিরে ধরে তখন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সম্বল হয় একটু আশা,একটুখানি সম্ভাবনার হাতছানি। তবে জীবন যে রকমের ই হয়ে থাকুকনা কেনো এর বহিঃপ্রকাশ কিন্তু বাস্তবতাকে না মেনে শুধুমাত্র আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে সেই জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই জীবনের সঠিক পথের সঠিক নির্দেশনা রেখে গিয়েছেন অনেক উক্তিবিদ,যাদের কথা সত্য বৈকি মিথ্যা নয়।

জীবনকে সঠিক রূপে রূপান্তরিত করতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্য মেনে নিতে হবে ,জীবন এমনই সৃষ্টি যে কিনা কখনও এক পথ চলেনা। কখনোই মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। জীবনের এই বৈশিষ্ট্যকে যারা মেনে নিতে পারেনা তারাই হতাশার মাঝেই জীবন যাপন করে থাকেন।আর যারা মেনে নিতে পারে তারাই খুঁজে পায় জীবনের সুখটুকু তখনই হতে পারে তারা সুখী ।কিন্তু সবাই কি পারে সব অবস্থা মেনে নিতে ?তবুও মেনে নিতে হয় জীবনের জন্য। জীবনের বাস্তবতা যারা মেনে নেয় তারা জীবনের আনন্দগুলো উপভোগ মাঝে লুকিয়ে থাকা আনন্দ উপভোগ করতে পারে। কষ্ট ও দুঃখগুলো থেকেই তখন তারা ভালো কিছু শিক্ষা নিতে পারে।গৃহীত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ও আমরা জীবন সাজাতে পারি। যার ফলে সকলের জীবনের দুঃখ কষ্টগুলো আমরা বাহির থেকে দেখতে পারিনা। বা আমরা তা অন্যকে দেখাতে চাইনা। দুঃখ কষ্টকে আমাদের সামলে নিয়ে সেই দুঃখ কষ্ট থেকেই শিক্ষা গ্রহন করতে হয় আমাদের।

সব সময়ই জীবনের বাস্তবতার মাঝে আসা কষ্টকে যদি আমরা মেনে না নিয়ে হতাশ হয়ে পরি তাহলেই জীবন হতাশার মধ্যে ডুবে যায়। কিছু কিছু কষ্ট জীবনে আসে যা ক্ষুদ্র জীবনের কাছে পাহাড় সমতুল্য বলেই মনে করা হয়ে থাকে। তাই আমাদের সব সময়ই হতাশায় না পরে থেকে ধৈর্য্য ও সময়কে কাজে লাগাতে হবে তাতে করেই জীবনে জড়িয়ে থাকা অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।।জীবনের বাস্তবতা নিয়ে অনেক জ্ঞানী ও উক্তিবিদরা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন উক্তি রেখে গিয়েছেন জীবনের কথা ভেবেই।
“অন্যের ভালো দিকগুলো খুঁজতে গেলেই,এক সময় নিজের সেরাটাই বের করে আনা সম্ভব হয়ে থাকে।।

আমাদের জীবনে কষ্ট কখনও কখনও এমন ভাবে আসে যখন চোখ বন্ধ হয়ে যায়। কান বধির হয়ে যায়।কন্ঠ বোবা হয়ে যায়।বুদ্ধি নির্বোধ হয়ে যায়।শরীর পঙ্গু হয়ে যায়।দিশেহারা জীবনে সব পরিকল্পনা ছাড়খার হয়ে যায় মূহুর্তের মধ্যে। তারপরও মানুষকে বেঁচে থাকতে হয় জীবনের অদৃশ্য প্রয়োজনে। আমি জানিনা কী সে প্রয়োজন।তবে হয়তোবা জীবনের কোথাও যেন কিসের একটা অদৃশ্য টান থেকে যায়।।এভাবেই বলা যেতে পারে যে,হয়তোবা আমার অনুপস্থিতিতে সব চলবে যথারীতি। তারপরও মনে হয় আমিই যেন সব সমস্যা সমাধানের একমাত্র ভরসা। আরো মনে হয়ে থাকে আমি ছাড়া হয়তো এই সমস্যা সমাধানের আর কেউ নেই; যেন শুধুমাত্র আমাকে ছাড়া ? অসম্ভব হয়ে থাকে !এই কথা মনে করেই হয়তো হাজার যন্ত্রনা সয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে হয়।।

তাইতো আমি লিখবো,জীবনের অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা কি যে কঠিন তা বোধ হয় মানুষ মাত্রই বুঝে থাকেন।।আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা জীবনের সঠিক লক্ষ্য পাওয়ার জন্য ছুটে থাকেন মিথ্যার পেছনে,এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকেন, তবুও যখন ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ পেতে হয়-তাতে দুঃখের কিছুই আসে যায়না। এই কঠোর পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে আমরা সকলেই হতে পারি আরো শক্তিশালী,আরো অভিজ্ঞ, আরো দক্ষ-এটাই তো সত্যিকারের জীবনের সত্যের ফলাফল ।

এই অল্প সময়ের জীবনে আমরা হাজার হাজার ভুল করে চলছি প্রতিনিয়ত ভাবেই, তবে হাজারবার হোঁচট খেতে হয় হাটা শিখতে, যে কষ্ট আমরা সকলেই করেছি শৈশবের জীবনে।তবুও আমরা গর্বিত আমাদের এই জীবনকে নিয়ে আমাদের! প্রত্যেকটি ভুল, প্রত্যেকবার হোঁচট খাওয়ার মতোই, তবে হোচট খেতে খেতে এক সময়ে আমরা আমাদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়ে থাকি এবং আমরা আরো শক্তিশালী ভাবেই জীবনকে গঠন করতে পারি।

মাঝে মধ্যে আমরা অনেক সময়ে অনেক কাজে কর্মে অনেক কিছুই ভুলে যাই ,তবে যদি আমরা একটু আন্তরিকতার ছোঁয়া পেতে পারি, আর সকলের সাথে যদি মন খুলে হাসতে পারি, কিছু সুন্দর কথা কথা উপস্থাপন করতে পারি, সকলের সাথেই সুন্দর ব্যবহার করতে পারে তাহলেই আমরা অসম্ভব কে সম্ভবনার দ্বারে পৌঁছে দিতে পারি।

আবেগ বড়ই অবুঝ হয়ে ধরা দিয়ে থাকে বাস্তবতার সাথে। মাঝে মাঝে বাস্তবতা ধাঁর ধারেনা এই আবেগ প্রবণতার।কখনও ভুলেও আগে-পিছের কোনো বিষয়ে,অথবা, সামনে-পিছনে কী হয়ে থাকে ‌তাও সঠিকভাবে দেখেনা,আমরা সকলেই আগামির কথা চিন্তা করেই জীবন সাজাতে চেষ্টা করবো। আবেগ সব সময়ই বর্তমানের কথা ভাবে, সাময়িক সুখ আর আনন্দের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেই ভালোবাসে। ঢেকে রাখতে চায় নিজেকে নিজেরই আবেগের ঘন কুয়াশায়। আর পেতে চায় সকালের ভীষণ ভীষণ আকাঙ্ক্ষিত মিষ্টি-মিষ্টি রোদের ভীষণ আরাম।

ব্যর্থতা মানে হচ্ছে ব্যর্থতা-কেন হয়েছে কার কারণে হয়েছে সেগুলো কেউ জানতে চাইবে না। তুমি ব্যর্থ হলে তার যন্ত্রণা তোমাকে একদম একাকী সইতে হবে,কেউ তোমার পাশে এসে দাঁড়াবে না।তাই কখনো কোনো বিষয়ে অজুহাত না দেখিয়ে, অন্যদের সুযোগ করে দেওয়াই ভালো মনে করি আমাদের প্রত্যেকের জীবনের জন্যই। আমাদের জীবনটাকে আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হয় আর সঠিকভাবে যদি আমরা এই কাজটি করতে পারি তাহলেই আমাদের জয় হবেই।

এর পরেও যদি আমাদের জীবন মেঘে ঢেকে যায় এবং সারা পৃথিবী যদি ছেঁয়ে ধরে। তবুও খুব একটা আক্ষেপ জাগেনা জীবনগঠনের জন্য। দেখা দেয়না জীবনে কোনো অস্থিরতা বা উদ্বিগ্নতা। কারণ প্রত্যাশা আমরা যতটুকু করেছি পেয়েছি তার চেয়েও অনেক বেশি।ঠিক যেন সকালের একমুঠো মিষ্টি রোদের উষ্ণতার মতোই মনে হয়। যে রৌদ্র টুকুই আমাদেরকে আলিঙ্গনের অনিঃশেষিত সুখ দিয়ে যায় পরম শীতের সকালে।এভাবেই হয়তোবা আমাদের দিনগুলো ভালই কেটে যায় সুখে আর আনন্দের মাঝেই ভেসে-ভেসে। তখন যেন মন থাকে আবারও পরবর্তী সকালের, মিষ্টি রোদের সুখের উষ্ণতার ছোঁয়ার বর্ণিল আশাতেই।আমাদেরকে জীবন উপভোগ করতে হয় প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে, প্রতিটি ছোট্ট ছোট্ট স্মৃতির আনন্দের উপলক্ষ্যের মধ্যেই। আমরা যত বেশি হাসবো যত কম অভিযোগ করবে আমাদের জীবন নিয়ে,, তখনই জীবনটা হয়তো ভরে উঠবে সুখের পরিতৃপ্তিতে।।

আমাদের জীবনের সাথেই জড়িয়ে থাকা অন্য একটি রূপরেখা নিয়ে যেটা হলো জীবনের চরম বাস্তবতা? বাস্তবতা বড়ই কঠিন তা ঐ সকালের রৌদ্র মাখা উষ্ণতার মতো নয়, মিষ্টি রোদের সুখের উষ্ণতায় সহজেই সুখের পরশ খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু বাস্তবতার রূপ অনেক কঠিন হয়ে থাকে আমাদের সকলের জীবনের জন্য।

বাস্তবতা সহজ আর সাবলীল নয়। বাস্তবতা কখনো কখনো বড়ই নিষ্ঠুর, নিরেট আর নিরাবেগের হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময় কঠিন আর অসহনীয় এমনকি সহ্যতার সীমার বাইরেচলে যায় বাস্তবতার রূপ। তবে কি বাস্তবতার কাছে আবেগের কোন দাম নেই? হয়তো আছে, হয়তো বোঝেনি,,নয়তোবা কম উপলব্ধি করে থাকি আমরা। আবেগের উদ্বেলতাকে, উন্মাদনাকে, উচ্ছ্বাসকে আর উল্লাসকে। কিন্তু কেউ প্রশ্রয় দিতে চায়না বা চাইলেও পারেনা ।কেননা বাস্তবতার নিরেট বাঁধার কাছে হার মানে সহজেই।,নিরুপায় হয়ে, হার মানতে হয়ে থাকে। নির্মম আর নিষ্ঠুর এই জগতের মাঝে বাস্তবতা এমনই যেন মনে হয় সকলের হাত-পা বাঁধা, অদৃশ্য কোনো শেকলে। বাঁধা হয়ে থাকে বাস্তবতার সকল মন-প্রান আর আবেগও; সমাজ, সামাজিকতা আর জীবনের নিতান্ত প্রয়োজনের কাছে আমরা সকলেই খুব অসহায়।
তাইতো আমাদের স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে দেওয়াল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন কেবল একটি জিনিস-সেটি হচ্ছে অজুহাত! আমরা এই অজুহাত না দেখিয়ে যদি আমরা এই অজুহাত দেখানো বন্ধ করে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথেই নতুন ভাবে কাজ শুরু করতে পারি তাহলে সেই দিন থেকেই আমাদের স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকবেনা। সেই মুহূর্ত থেকেই আমাদের জীবন বাস্তবতার সাথেই নতুন রূপ নিতে শুরু করবে!

পরিশেষে এই সুন্দর ছোট জীবনের কথাগুলো আমি এখানেই শেষ করতে চাই,আমাদেরকে এমনই কাজ করতে হবে যাতে করে জীবনের সবকিছুই সুন্দর রূপে ফুটে উঠে।আমরা সকলেই একবার হলেও চেষ্টা করে দেখবো এবং চেষ্টা করা উচিত বলেই আমি মত পোষণ করছি।আমাদের সৃষ্টি কর্তা প্রতিটি মানুষকে কিছু না কিছু ক্ষেত্রে অনুপম দক্ষতা দিয়ে পাঠিয়েছেন এই ধরনীতে,তবুও আমরা যেন কখনোই জানতে পারিনা জীবনের পরবর্তী দিনগুলোতে কী হবে। আমরা এই পৃথিবীতে যতটা দিন বেচেঁ থাকবো ততটা দিনই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবো যেন তিনি আমাদেরকে যতদিন এই পৃথিবীর বুকে বাঁচিয়ে রাখেন ততটা দিনই যেন তার গুনাগুন গেয়ে যেতে পারি শুধুমাত্র এই জীবনের বাস্তবতার কথা ভেবেই, আবেগের কথা ভেবে নয়।

লেখক পরিচিত: 
কবি,লেখক,কলামিষ্ট ও সাংবাদিক
কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদকঃ বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি।
ইমেইল- mohsinjournalist3@gmail.com