মতলব উত্তরে ৫৩০ কোটি টাকা দূর্নীতির দায়ে দুদক মামলায় ফেঁসছেন ছয় নেতা

চাঁদপুর: দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছয় নেতার বিরুদ্ধে ৫৩০ কোটি টাকা দূর্নীতির মামলা হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকে মামলা দায়ের করেন স্থানীয় এলাকার জৈনিক তিন ব্যক্তি। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগ দাখিলকারীদের নাম প্রকাশ করা যায়নি।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার ১০০ কোটি টাকা, মোহনপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা বোরহান খালাশী ১০০-১২০ কোটি টাকা, মোহনপুর গ্রামের আহার মিয়া খালাশী ১০০-১২০ কোটি টাকা, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ ৪০-৫০ কোটি টাকা, মোহনপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহীন খালাশী ৭০-৮০ কোটি টাকা ও ছেঙ্গারচর পৌরসভার প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন মোল্লা ৫০-৬০ কোটি টাকা দূর্নীতি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগে উল্লেখিত ছয় ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তবে তদন্ত শেষে দূর্নীতির ঘটনা সত্যতা পাওয়া গেলে ফেঁসে যাবেন তারা।

দুদক মামলার এজাহারে আরো বলা হয়েছে, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল, বাহাদুরপুর, দশআনি, মোহনপুর, এখলাছপুর, জহিরাবাদ ও আমিরাবাদ এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। যার কারনে হাজার হাজার ফসলী জমি ও শত শত বসতবাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন ও হুমকির মূখে। উল্লেখিত ব্যক্তিরা নদী থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। উপজেলার ছেঙ্গারচর বাজারেও সরকারি খাস জমি দখল করে অনেক দোকান কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছেন। রাসেল নামের এক ছেলেসহ সাত আটজন মানুষ মেরেও ফেলেছে তারা। মরণব্যাধি ইয়াবার ব্যবসা করেও তারা বহু টাকার মালিক হয়েছেন।

বলা হয়, বোরহান খালাশী বাহেরচর এলাকায় নিরীহ কৃষকদের জমি দখল করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার একটি স্কুলের শিক্ষক হয়েও তিনি আজ কোটি কোটি টাকার মালিক হয় কিভাবে? উল্লেখিত ব্যক্তিদের নামে বেনামে ঢাকার টিকাতলী, শান্তিনগর ও ডেমরা এলাকায় বাড়ি এবং ফ্ল্যাটের মত সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

উল্লেখিত ব্যক্তিরা তাদের এ দূর্নীতির কথা অস্বীকার করেছেন ও এ অভিযোগ মিথ্যা বলেও জানিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার বলেন, আমার নামে দুদকে মামলা হয়েছে বিষয়টি আমি জানিনা। কে বা কাহারা মামলা করেছে তাও জানিনা। অন্যান্যদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, মামলা তদন্ত চলছেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আশা করি দূর্নীতির ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে পারবো।
এমএমএ/