মতলবে মাদক সম্রাট রতনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন 

চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মাদক সম্রাট রতনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ও দূর্গাপুর আনন্দ বাজারস্থ আলোর সন্ধ্যানে বহুমূখী সমবায় সমিতি এবং জনকল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ এর টাকা আত্মাসাৎকারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ।

মঙ্গলবার (৫ফেব্রুয়ারি) বিকালে দূর্গাপুর বেরীবাঁধ সড়কে এ মানববন্ধনে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী করেন বিক্ষোভকারীরা।

মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম সরকার ইমনের ছোট ভাই রতন দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেফতারও করেছে। এসব বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া নিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারী একই গ্রামের লালমিয়ার ছেলে কবির হোসেন ও তার মাকে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন আহতের পরিবার ও বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, আনন্দ বাজারে জনকল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ ও আলোর সন্ধ্যানে বহুমূখী সমবায় সমিতিতে অনেক গ্রাহকের প্রায় একশ’ কোটি টাকা রাখা ছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার কিছু লোকেরা ওই টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা ওই টাকা ফিরিয়ে এনে গ্রাহকদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাংসদ নুরুল আমিন রুহুলের প্রতি দাবী জানাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মমিন দেওয়ান, লুৎফর রহমানের ছেলে বোরহান উদ্দিন, আদম আলীর ছেলে খোরশেদ আলম, আদম আলীর ছেলে খোরশেদ আলী, নাঈম প্রমুখ। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মমিন দেওয়ানসহ কয়েকজন বক্তব্যে বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান ইমন সরকার ও দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আবুল খায়ের দুইটি সমিতি প্রায় একশ’ কোটি টাকা আত্মাসাৎ করেছে। আমরা এই টাকা ফেরত এনে গ্রাহকদেরকে বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই ইমন দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।

তবে এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম সরকার ইমন বলেন, আমি কখনোই ওই সমবায় সমিতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। টাকা পয়সা আত্মসাৎ তো দূরের কথা সমিতির সাথে আমার কোন লেনদেনই হয়নি। বরং গ্রাহকরা কিভাবে তাদের টাকা ফেরৎ পেতে পারে সে ব্যাপারে সহযোগীতা করেছি।

উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারী বিকালে মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত হন কবির। এ ঘটনায় বণিক্য কান্দি গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে বোরহান উদ্দিন (৩৫) বাদী হয়ে ঘটনার দিনগত রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৬। মামলায় বণিক্য কান্দি গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রতন সরকার (৩২), আলমাছ সরকারের ছেলে সুজন সরকার (৩৫), সোহেল (৩০), আলমগীর সরকার (৪৫), মনির সরকারের ছেলে মহন সরকার (৩৩), জাহাঙ্গীর সরকারের স্ত্রী নুরুন্নাহার (৫৮), আঃ রশিদের ছেলে সাইফুল ইসলম (২৬), আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৭)সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামী করা হয়।
এমএমএ/