ভূরুঙ্গামারীতে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন, দামে হতাশ কৃষক

কুড়িগ্রাম জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত ভূরুঙ্গামারী উপজেলার এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে দোল খাচ্ছে পাকা ধানের সোনালী শীষ। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে কাটা মাড়াই শুরু হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। কৃষকের গোলায় উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান।

কিন্তু হাসি নেই কৃষিকের মুখে, তৃপ্তি নেই কৃষকের মনে। বর্তমানে হাট-বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কমেছে মণ প্রতি ২০০-২৫০ টাকা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে ও কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার তুলনা মূলক বন্যা না হওয়া ও বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় তারা অনেকটা আগে ভাগেই ইরি-বোরো ধান চাষ করেছিলেন।

বিদ্যুৎ, তেল, সার সহ প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহ ছিল পর্যাপ্ত। প্রকৃতিক বির্পযয় কাটিয়ে আগাম ফসল ঘরে তুলার জন্য কৃষকরা হাইব্রিড, এসিআই, ব্রী-২৮ ও ২৯, সোনার বাংলা, উফসী, বিনা, স্বর্ণ ও গুটি স্বর্ণ সহ দেশিও জাতের বিভিন্ন ধান চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু দামে অত্যান্ত হতাশ কৃষক। বাজারে প্রতি মণ ধান ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে কৃষক কনোমতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারলেও লাভের মুখ দেখছেন না।

উপজেলার কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন, ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। বিঘায় (৩৩ শতক) প্রায় ২৫ থেকে ২৭ মণ ধান হবে। কিন্তু ধানের দাম একেবারেই কম। প্রতি মণ কাচা ধান ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা আর একটু ঝরা শুকনা হলে ৫০০-৫২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরী দিতে হচ্ছে ৫৫০ টাকা। তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামরে আরেক কৃষক আব্দুল জব্বার জানান চারা রোপন থেকে পাকা ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত যে খরচ হয় তাতে ৫০০ টাকা দরে প্রতি মণ ধান বিক্রি করে কোন ক্রমেই কৃষক লাভবান হবে না। তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের জোড় দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫,৭৮৮ হেক্টর জমিতে আর অর্জিত হয়েছে ১৫,৯৫০ হেক্টর। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ৭৬,৪২৯ মেট্টিক টন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান জানান এবার উপজেলার কৃষকরা তাদের চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন কৃষি উপকরণ পাওয়ায় নির্বিঘ্নে ইরি-বোরো ধান উৎপাদন করতে পেরেছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে। তবে দামে কিছুটা হতাশ কৃষক।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সমগ্র উপজেলায় ধানের দাম নির্ধারণ করে সর্বনিন্ম  মূল্যে ধান কৃষকের নিকট থেকে ক্রয় করছে।

এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমুল্য কুমার সরকার জানান, সরকারি ভাবে ভ‚রুঙ্গামারী উপজেলায় এবার ৪৫১ মেট্টিক টন ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে কৃষকের নিকট থেকে সংগ্রহ করা হবে। আর মিল বা চাতাল মালিকদের নিকট থেকে ৪,১০০ মেট্টিক টন চাল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে। যা সরকার কর্তৃক দাম ও চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলার সচেতন মহল সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোড় দাবি জানিয়েছেন।

 

নাবা/ডেস্ক/হাফিজ