ভাড়া নৈরাজ্যের শিকার চাঁদপুরের লঞ্চযাত্রীরা

চাঁদপুরবাসীর কাছে যাতায়াতের জন্য আনন্দময় ও বিলাসবহুল পন্থা হলো নৌপথ। চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোর অধিকাংশ মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করে থাকেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটের চিত্র ছিলো অন্য রকম। শুধু ঈদই নয়, সারা বছরই চাঁদপুরের লঞ্চগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

একটু স্বস্তি ও আনন্দময় ভ্রমণের জন্য মানুষ সড়ক পরিবহন বাদ দিয়ে ছুটে যায় নৌপথে। তবে ঈদ কেন্দ্র করে এই সুযোগের অসদ্ব্যবহার করতে দেখা গেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে। লঞ্চগুলোয় শুরু করেছে ভাড়া নৈরাজ্য।

অভিযোগ উঠেছে, চাঁদপুরের লঞ্চে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগে জানা গেছে, লক্ষ্মীবাজার শিপিং কর্পোরেশনের ঢাকা-চাঁদপুর রুটে বিলাসবহুল লঞ্চ এম.ভি বোগদাদিয়া-৭ ঈদ কেন্দ্র করে বাড়িয়েছে ভাড়া।

ওই লঞ্চের যাত্রী মোঃ আল-আমিন নাগরিক বার্তাকে বলেন, আমি ঢাকা থেকে গত শুক্রবার চাঁদপুরে এসেছি এম.ভি রফ রফে। বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ছিলো ২৫০ টাকা। আজ বোগদাদিয়া-৭ এর বিজনেস ক্লাসের ভাড়া নিচ্ছে ৩০০টাকা। আমরা চাই অচিরেই এই ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ হোক।

ভিআইপি কেবিনের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, ২৪ রমজানে ভিআইপির ভাড়া ছিলো ২০০০ টাকা। আজ ভাড়া নিয়েছে ২৫০০ টাকা। কয়েকদিন আগেও তাদের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কাউন্টারের সামনে লাগানো ছিলো। আজ এসে দেখছি তালিকা সরিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।

এমভি বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চের সুপারভাইজার আঃ রহিম নাগরিক বার্তাকে জানান, গত ২৫ রমজান থেকে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আগের ভাড়ায় সব ধরনের লঞ্চ খরচ ও স্টাফদের বেতন বোনাস না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, শিগগিরই ভাড়া কমানো হবে।

বোগদাদিয়া ছাড়াও এম.ভি সোনার তরী, এম. ভি রফ রফ, এম.ভি ইমাম হাসান লঞ্চেও একইভাবে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ভিআইপি কেবিন-২০০০ টাকা, ফ্যামিলি কেবিন-১৫০০ টাকা, ডাবল (এসি) কেবিন-১০০০ টাকা, ডাবল (সাধারণ) কেবিন-৮০০ টাকা, সিঙ্গেল (এসি) কেবিন-৬০০টাকা, সিঙ্গেল (সাধারণ) কেবিন-৪০০ টাকা, বিজনেস ক্লাস (এসি) ২৫০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণী চেয়ার-১৫০ টাকা, ডেক যাত্রী-১০০ টাকা।

বর্তমান লঞ্চগুলো নিচ্ছে ভিআইপি কেবিন-২৫০০টাকা, ফ্যামিলি কেবিন-২০০০টাকা, ডাবল এসি কেবিন-১২০০ টাকা, ডাবল নন এসি কেবিন-১০০০টাকা, সিঙ্গেল এসি কেবিন-৬০০টাকা, সিঙ্গেল নন এসি কেবিন-৪০০টাকা, বিজনেস ক্লাস এসি-৩০০টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণী চেয়ার-১৫০ টাকা, ডেক যাত্রী-১০০ টাকা।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর’র সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম নাগরিক বার্তাকে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে যাত্রীরা লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ দেয়নি আমাদের কাছে। তিনি আরও বলেন, আমরা বসে আছি যাত্রীদের সেবার জন্য। যাত্রীরা অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম।

নাবা/১০জুন/তারেক