ভবিষ্যৎ শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা টি-টুয়েন্টি দলের ক্যাপ মাথায় তোলেন রুমানা আহমেদ। ৮ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এই সম্মান পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার এবারের লক্ষ্য আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে জায়গা করে নেয়ার পাশাপাশি অলরাউন্ডার র্যাং কিংয়ে এক নম্বর জায়গা দখল করার। কিন্তু লক্ষ্য পূরণের ভবিষ্যৎ যাত্রা নিয়ে চিন্তিত রুমানা। নাগরিক বার্তার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে  নিজের প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানালেন সেই শঙ্কার কথা।

২০১৮ সালটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল বছর পার করেছেন রুমানা। গেল বছর ২৪ টি২০ ম্যাচে ৩০ উইকেটের পাশাপাশি তার ব্যাট থেকে আসে ২২৯ রান। মেয়েদের এশিয়া কাপ জয়েও তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন রুমানা। পাশাপাশি মেয়েদের ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরবও রুমানার। সেই পুরস্কার হিসেবে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঘোষিত আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

নাগরিক বার্তা: আইসিসির বর্ষসেরা তালিকায় যুক্ত হয়ে কতটা খুশি?

রুমানা: আমি খুবই আনন্দিত। এই পুরস্কারের অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ দ্রুত এটা আমি আশা করিনি। ভেবেছিলাম, এটার জন্য আমাকে আরও অপেক্ষা বা পরিশ্রম করতে হতে পারে।

নাগরিক বার্তা: সামনের দিকে এই সম্মান আপনাকে কতটা অনুপ্রাণীত করবে?

রুমানা: এই সম্মান আমার লক্ষ্যকে আরও উপরের দিকে নিবে। এখন আমার টার্গেট ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দুইটাতেই সেরা একাদশের অংশ হওয়ার। উন্নতির তো শেষ নেই। আমি অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্ব র্যাং কিয়ে ১ নম্বরে আসতে চাই। কিন্তু এখন আমি আমার দলকে নিয়ে বেশি চিন্তিত। নিজের পারফর্ম নিয়েও চিন্তিত। আমরা এই বছর এখনো খেলার সুযোগ পাই নি।

নাগরিক বার্তা: ২০১১ সাল থেকে দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে পথচলা। এই আট বছর পর নিজেকে কোথায় দেখছেন?

রুমানা: আসলে উন্নতির তো শেষ নেই। আমি অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্ব র্যাং কিয়ে ১ নম্বরে আসতে চাই। এখন বোলার র্যাং কিয়ে আছি ৬ এবং অলরাউন্ডিংয়ে আছি সাতে। আমি চাই নিজের উন্নতি করে ১ নম্বর হতে।

নাগরিক বার্তা: আপনার দলের সফলতা নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

রুমানা: আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার দল নিয়ে খুব আশাবাদী। আমি গর্ববোধ করে বলি যে, আমরা যদি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাই তাহলে আমাদের টিম থেকে আরও তিন-চারটা রোমানা বের হয়ে আসতো। তাহলে আমরা আরও গর্ববোধ করতে পারতাম। কিন্তু খেলার অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি।

নাগরিক বার্তা: নিজেদের উন্নতির দিক কোথায় দেখছেন?

রুমানা: এখন নারী ক্রিকেটের উন্নতির জন্য আমাদের বেশি বেশি আন্তজার্তিক ম্যাচ খেলা খুব দরকার। দেখেন আমি এখন র্যাং কিংয়ে গতবছর ৬ নম্বর ছিলাম কিন্তু এভাবে ম্যাচ খেলা সুযোগ না পেলে সেটা আর থাকবে না। আমাদের খেলার সুযোগ নেই, এতে অন্যরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা ৮-৯ তে ছিল তারা এখন আমার চেয়েও এগিয়ে যাচ্ছে। খেলা না হলে আমি আমার লেভেলটা বুঝবো কি করে। বেশি বেশি খেলাটাই আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলতে পারলেই আমরা আমাদের উন্নতি করতে পারবো।

নাগরিক বার্তা: আগামী প্রজন্মের প্রতি কোনো বার্তা?

রুমানা: আগামীদের জন্য এটাই বলবো যে, কষ্ট করলে কেষ্ট মিলবে। নারীদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে, আরও যাবে। আমি আশা করবো, খেলার ইচ্ছে নিয়ে যারা ঘরে বন্ধী হয়ে আছেন তারা বেরিয়ে আসেন। আমরা আপনাদের অপেক্ষায়ই আছি।’

  নাগরিক বার্তা: সাকিব-তামিমদের কতটা অনুসরণ করেন?

রুমানা: আমি আসলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে তামিম ইকবালকে বেশি পছন্দ করি। উনার ব্যাটিং স্টাইল খুব অনুসরণ করি। তাছাড়া অবশ্যই আমাদের অধিনায়ক মাশরাফি ভাইয়ের প্রেরণা নেই। আর নিজে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব ভাইকে দো অবশ্যই অনুসরণ করি। আসলে তারাই তো আমাদের অনুপ্রেরণা।

(নাবা/১২ এপ্রিল/এইচএ)