ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া নেই মাশরাফির

শেষবারের মতো বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বমঞ্চে যাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্যারিয়ারের অন্তিম মুহূর্তে বিশ্বকাপ নিয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। সমর্থকরা যেভাবে খুশি থাকেন সেটার জন্যই নিজের শতভাগ দিতে চান। পাশাপাশি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চাপহীন খেলতে চান বলে জানালেন টাইগার কাপ্তান।  বিশ্বকাপ নিয়ে অধিনায়কের মতামত নাগরিক বার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরে হলো।

এবারের বিশ্বকাপ দলটা কতটা অভিজ্ঞ মনে হয় আপনার?

মাশরাফি- অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক আছে বলে গত কয়েকবারের থেকে এবারের দলটাকে ব্যালেন্স বলা যায়।  যারা জুনিয়র খেলোয়াড় আছে বেশিরভাগই বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে।  এর মানে এই যে অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো টুর্নামেন্ট খেলা যাবে। অবশ্যই ইউনাইটেড থাকতে হবে।  একটা টুর্নামেন্টে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে।  তার আগে আয়ারল্যান্ড সিরিজ আছে। নয়টা ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি আসবে।  সেগুলো হ্যান্ডেল করার জন্য মানসিকতা বেশি জরুরী।  আপস অ্যান্ড ডাউন্স থাকবে কিন্তু সামনের ম্যাচে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে সেটা খুব জরুরী। আয়ারল্যান্ড থেকেই সেটা প্র্যাকটিস করতে হবে যেন আমরা বিশ্বকাপের জন্য রেডি থাকি এইসব সিচুয়েনসন হ্যান্ডেল করার মতো।

বাংলাদেশের এই দলটা কি সেমিফাইনালে উঠার সামর্থ্য রাখে?

মাশরাফি-  আসলে অসম্ভব বলে কোনো কিছুই  নেই। অবশ্যই সম্ভব।  তবে কঠিন অনেক কঠিন ।  এর আগে ওয়ার্ল্ড কাপ যেরকম ছিল গ্রুপ স্টিজে একটা বড় হারালে পারলে যেটা হয়েছে তাদের কামব্যাক করা কঠিন হয়ে যেত। লিমিটেড গেমস ছিল।  এখানে নয়টা ম্যাচ।  যারা প্রত্যাশা করছে সেমিফাইনাল খেলবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ থাকবে।  আমাদেরকে ওই জায়গাটা খেয়াল রাখতে হবে।

নিজের শেষ বিশ্বকাপ, ক্যারিয়ারও কি শেষের পথে?

মাশরাফি- সম্ভবত না, তবেই এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।  আলাদা করে নিজেকে তৈরি করার কিছু নেই।  বিশ্বকাপে এটাও আবার একটা প্রেসার। আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে তৈরি হয়ে ওখানে কিছু করতে পারব। প্লেয়ার হিসেবে আমাকে পারফর্ম করতে হবে।  অবশ্যই অধিনায়কত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমার যে দায়িত্বটা আছে সেগুলো চেষ্টা করবো পুরোপুরি ঠিক করার।

হাইস্কোরিং উইকেটে খেলা, কতটা চ্যালেঞ্জিং ?

মাশরাফি- ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা জানতাম যে ব্যাটিং করা কঠিন।  কিন্তু এখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে প্রচুর রান হয়।  আর বিশ্বকাপে আইসিসির চাওয়া থাকে ফ্ল্যাট উইকেট এবং প্রচুর রানের।  সেই ক্ষেত্রে অবশ্যেই এখানে বড় রানের খেলা হবে। ইংল্যান্ডে এই সময়ে অনেক রান হয়।  সব দলের বোলারদের জন্যই চ্যালেঞ্জ।  আমাদের হয়তো কোনো রিস্ট স্পিনার নেই, এটা আমাদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ।  অন্যান্য দলে যাদের আছে তারা ব্রেক থ্রু দিয়ে দেয় মাঝখানে। এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ।  রান করার সামর্থ্য যে আমাদের নেই তা বলবো না। অতীতে হয়তো এরকম রেকর্ড খুব একটা নেই।  চেইজ করে জিতেছি বা এতো বড় রান করেছি।  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ৩২৯ করেছি, তামিম একশ করেছিল।  এরকম যদি ব্যাটিং করি তাহলে সম্ভব। অন্যান্য দল যেরকম নিয়মিত করছে। আমাদের এতো বড় স্কোর নেই।  একটা কারণ হতে পারে আমাদের হোম কন্ডিশনে তো এতো এতো রান হয়না।  এটা একটা ব্যাপার। অভ্যাসের  একটা ব্যাপার আছে।  বলা কঠিন তবে সামর্থ্য যে নেই তা বলবো না।  আমাদের ব্যাটিং অর্ডার অনেক অভিজ্ঞ।  কিন্তু অনফিল্ডে ২২ গজে যে চাপটা আসবে ওই চাপ হ্যান্ডেলও করতে হবে আবার রানও করতে হবে। এটা ডিপেন্ড করে মেন্টালিটির ওপর।  কিন্তু সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নাই।

বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ কতটা কাজে দেবে বলে মনে করেন?

মাশরাফি- শেষবার আমরা বিশ্বকাপ খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ায়। একদম সিমিলার কন্ডিশন এবারও।  ফ্ল্যাট উইকেটও ছিল।  তাদের চাওয়া ছিল ওরকমই।  ওর ভেতরে ওখানে পেসাররা ভালো করেছিল।  আমাদের এখানেও ভালো করার সামর্থ্য আছে।  আমি সিউর, ওখানে যেকোনো দলের পেস বোলাররা যদি ভালো করে তাহলে ওখানে ভালো করার সুযোগ বেশি থাকবে।  ওখানে হেল্প ততটা থাকবে না, স্পিনারদেরও হেল্প ততটা থাকবে না।  আমরা যারা পেস বোলার আছি, আমরা যদি শুরুটা ভালো করি তাহলে আমাদের জয়ের সুযোগ বেশি থাকবে। আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বোলাররা ভালো করিনি বলে আমরা দলগত পরফরম্যান্স সেভাবে ভালো করতে পারিনি।  অবশ্যই আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিলাম কিন্তু ইন অ্যান্ড আউট আমরা চার ম্যাচে পেস বোলিং ভালো করিনি ইংল্যান্ডে। ওটা আমাদের মাথায় আছে।  আমরা পেস বোলিং ইউনিট সম্মিলিতভাবে কতোটা ভালো করতে পারি।  নির্দিষ্ট করে একজনকে না বলে পুরো পেস ইউনিটকে ভালো করতে হবে।

আর স্পিনের কথা আসলে?

মাশরাফি- যে উইকেট আসবে, আসলে উইকেটের ওপর ক্রিকেট অনেক কিছু নির্ভর করবে।  কারণ আপনি দেখবেন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ডের যে বোলিং অ্যাটাক তারা বোলিংয়ে ৩৫০ রান দিচ্ছে আবার সেটা আবার তারা চেইজও করে ফেলছে।  এমন না যে তারা ব্যাটিংয়ে চেইজ করতে পারছে না। আপনি যেটা বললেন তিনশ’র আগে আটকাতে পারার অ্যাবিলিটি আমাদের আছে।  হ্যা এক্সট্রা পেস যেটা দরকার সেটা নেই।  তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে হয় কি অনেক সময় পেস মেটার করে রান যদি বৈচিত্র্য ঠিক মতো থাকে।  তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদেরকে ওইভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।  যেহেতু আমাদের এক্সট্রা রিস্ট স্পিনার নেই আমাদের।  এখানে আমাদের অভাব আছে। তবে সাকিব ওয়ার্ল্ড ক্লাস। মিরাজ খুব ভালো করছে।  মুস্তাফিজ, রুবেল, সাইফউদ্দিন, আমি আছি।  ইউনিট হিসেবে আমরা খারাপ না যে আমরা ওই চাপ হ্যান্ডেল করতে পারব না।  কিন্তু কোনো কোনো ম্যাচে আপস ডাউন যাবে। কিন্তু কাম ব্যাক করা জরুরী। এটা হতে পারে এক ম্যাচ পর, আবার মিডলে।  ভালো দুই-একটা উইকেট পড়লে খেলা বোলারদের পক্ষে চলে আসে। এসব জিনিসগুলো কিন্তু হেল্প করবে। আমাদের  সামর্থ্য সমপর্কে আমরা জানি। আমাদের সেরা সামর্থ্য ব্যবহার করা গুরুত্বুপূর্ণ।

নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া?

মাশরাফি- আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।  ভালো হলে সবাই খুশি হবে।  আমারও ভালো লাগবে। এক্সট্রা পেসার আমি কখনো নিতে চাই না।  যেটা নিয়ে চিন্তা করা যে শেষ বিশ্বকাপ খেলছি এখানে ভালো কিছু করে আসা, আমি  সব সময় ভাগ্যে বিশ্বাসী।  পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে। মেহনত করতে হবে। কষ্ট করতে হবে। সেটা করার জ্য প্রস্তুত কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বেস্ট বেস্ট টিম অনেক সময় বিশ্বকাপ জিতেনি।  সেরা দলআবার অনেক সময় সেমিফাইনালেও উঠেনি। আমাদের ওপরে এরকম  কোনো চাপ নেই যে আমাদেরকে বিশ্বকাপ জিতে আসতে হবে। কিংবা আমাদের সেমিফাইনালে ‍উঠতে হবে। আমরা ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।  পুরো বিশ্বের প্রাক্তন ক্রিকেটার, যারা টপ ক্রিকেটার ছিল বা যারা অ্যানালাইস করে  তাদেরকে যদি আপনি প্রশ্ন করেন, আমরা কখনোই ফেবারিট না।  আমরা যদি এখানে কিছু করতে পারি তাহলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের নিয়ে পরিবর্তন হবে আরও বেশি যেটা আাগের থেকে অনেক হয়েছে। আমরা সেটা যদি করতে পারি ভালো। এটা অনেক গ্রেট সুযোগ আমাদের জন্য। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই চাইবো ভালো করি।

ট্রাই নেশন, বিশ্বকাপে সেরা দল নিয়ে যাচ্ছেন, প্রেরণা কিনা?

মাশরাফি- প্রথমত আমরা গতবার যখন ট্রাই নেশন খেলেছিলাম, ওইরকম যদি উইকেট দেয় তাহলে আমি নিশ্চিত না আমাদের প্রেপারেশন কেমন হবে। কারণ ইংল্যান্ড ওই রকম উইকেট আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গিয়ে পাই নি। আশা করব যে এবার সিমিলারিটি থাকবে। কারণ আমরা প্রস্তুতির জন্য আয়ারল্যান্ডকে নিয়েছি। সেখানকার উইকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেই উইকেটটা ইংল্যান্ডে থাকবে সেটা যেন পাই। আর সেখানে প্রত্যেকটা ম্যাচ জয় করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর বিশ্বকাপের জন্য আলাদা অ্যাডভান্টেজ হবে যদি আমরা এখান থেকে জিতে ওখানে যেতে পারি।

আর আপনারা যেটা বলেছেন, সেরা দল, এইটা গুরুত্বপূর্ণ না। এশিয়া কাপে এই দল নিয়েই গিয়েছিলাম। ট্রফি জিততে পারি নি, সেরা দলই ছিলাম। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। খুব আগের বিষয় না। এই দলই ছিল। এই হাইপ তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। দুই বছর আগে এই দলই খেলেছে। সুনতুন করে এক্সট্রাঅরডিনারি এমন কিছু তাদের ভেতর আসে নি যে তারা এই মুহূর্তেই সেরা দল। সেরা দল সবসময় ভালো করে না। যারা মাঠে ভালো করে তাঁরাই ভালো করে।

স্কোয়াড পছন্দ হয়েছে?

মাশরাফি- প্রথমত, যেই দলটা দিয়েছে, যেই দল দিবে সেটাকেই সেরা দল বলতে হবে ক্যাপ্টেন হিসাবে। আমরা সেরা দল নিয়েই যাচ্ছি। ১৫ জনের যখন স্কোয়াড হয় তখন কিছু থাকেই। হয়তো যাকে কেউ এক্সপেক্ট করছে না সেটা দলের জন্য ফরচুনেট হয়ে যায়। এটা এখানে এসে বলা কঠিন।

সেরা রেজাল্ট পেতে কতটা বিশ্বাসী?

মাশরাফি- এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে আমাদের সেমিফাইনালা যাওয়া খুব বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে যেটা বলতাম যে, সেমিফাইনাল গেলে একটা একটা ম্যাচ। এখনো তাই বলতে হচ্ছে। সেমিফাইনালে যদি যেতে পারি, অনেক বড় অর্জন হবে। কারণ এবারের ফরম্যাট সেই ৯২’র মত, যেটা খুব কঠিন। সেমিফাইনালে যাওয়া অনেক বড় অর্জন। আমরা অনেকবার সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে হেরেছি। আগে সেমিফাইনালটা যদি যাই, তাহলে বড় অর্জন হবে। তারপর ঐ পার্টিকুলার দিনে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ।

১৫ জনের উপর বিশ্বাস আছে?

মাশরাফি- হ্যাঁ আমার অবশ্যই আছে। বিশ্বাস রাখি যে ওরা ভালো খেলবে ও ভালো রেজাল্টও করবে। কারণ আগের বার যখন সৌম্য এসেছিল বিশ্বকাপে তখন কিন্তু একই রকম ছিল। প্রথমবার বিশ্বকাপে, এখন তো তাঁর চার বছরের অভিজ্ঞতা আছে। রিজেল্টলি রান করেছে। বলব না যে ফর্মে আছে। এক দুই ম্যাচে রান করলে তো ফর্মে আসে না। যেটা তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদদের আছে। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপে ভালো খেলবে, আয়ারল্যান্ডেও ভালো খেলবে।

নয়টা ম্যাচ, ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কতটা কঠিন?

মাশরাফি- নয়টা ম্যাচে, আমার মনে হয় প্রতিটা দলের খারাপ ভালো দিয়ে যাবে। এটা খুব ইম্পরট্যান্ট যে নেক্সট ডে’তে কামব্যাক করা। যেটা যাবে সেটা তো আর ফিরে আসা সম্ভবও না। এটা নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। বিশ্বকাপে এক মাসে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। এখানে প্রতিটা ম্যাচ আমাদের জন্য সমান যাবে না। যেটা ম্যাচ খারাপ যাবে পরের ম্যাচে যেন সেই রেশটা না থাকে। এই প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছি। এটা আসলে মেন্টাল ব্যাপার। আমাদের আরও কথা বলতে হবে। আরও প্রস্তুত হতে পারি এবং মেক সউর করতে পারি যেন আমরা সেরাটা দিতে পারি প্রতি ম্যাচে। অনেকসময় ম্যাচ হারলেও সেরাটা দিতে পারলে পরের ম্যাচে মন চায় যে আরও বেশি কিছু করি। এটা ইম্পরট্যান্ট।

তবুও কি মনে হয় আমরা বিশ্বকাপ জিতবো?

মাশরাফি- বিশ্বকাপ জেতার কথা যেটা বললে অবশ্যই সম্ভাবনা আছে, আবার কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। হয়তবা শেষ এশিয়া কাপ জিতলে এই ধরণের টুর্নামেন্ট কীভাবে জিততে হয় এটার অভ্যাস হতো, এটার অভ্যাস থাকা খুব জরুরী। এর আগে সেমিফাইনাল হয়েছে ,বা কোয়ার্টার ফাইনাল আছে। ফাইনালও এশিয়া কাপে উঠে জিততে পারিনি তিনবার। যে মানসিক চাপ থাকে তখন হয়ত একট দুইটা উইকেট ধসে পড়েছে ওই চাপটা ধরতে পারব। বড় টুর্নামেন্ট জিতলে পরে এই চাপ হেন্ডেল করা সহজ হয়। খুব কঠিন কিন্তু অসম্ভব বলব না।

পেসারদের চোট কতটা চিন্তা দিচ্ছে?

মাশরাফি- পেস বোলারদের ব্যাপারটা এমন যে তাঁরা কখনো পুরপুরি সুস্থ থাকে না। ছোটখাটো চোট নিয়ে খেলতেই হয়। আমাদের ড্রেসিং রুমে একজন লেজেন্ড আছে কোর্টনি ওয়ালশ তার সঙ্গে কথা বলেও অনেক জেনেছি যে সেও সকালে উঠে অনেক পেইন ফিল করত কিন্তু তারপর ম্যাচ খেলত। এটা অভ্যাসের ব্যাপার। আমাদের পেস বোলার আমিসহ যার আছি আমাদের একেবারে সিরিয়াস কিছু না হলে শতভাগ দিতে হবে, সেই মানসিকতা নিয়ে যেতে হবে। যেহেতু ওখানে কাজটা আরো কঠিন। কাজেই ছোটখাট চোট বাইরে রেখেই খেলতে হবে।

তাসকিন ইস্যুটা আসলে?

মাশরাফি- কোচ মনে করেছেন অতিরিক্ত কিছু পেসার সঙ্গে রাখা। যদি আল্লাহ না করুক কোন সমস্যা হয়। তারা এখানে কি কি অনুশীলন করবে এসব চিন্তা করে নেওয়া হয়েছে কারণ কারো কোন সমস্যা হলে যেন ব্যাকআপ তৈরিই থাকে। যেহেতু তিন চারজনের চোট আছে। আয়ারল্যান্ডে গিয়েও পাঁচটা ম্যাচ খেলতে হবে যদি ফাইনালে উঠি। পাঁচটা ম্যাচ খেলতে গেলে যেকোন অঘটন ঘটতে পারে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে একজন ব্যাকআপে আছে আর ওই কন্ডিশনে গিয়ে তৈরি আছে। এই কারণে স্কোয়াডে থাকা পেসারদের নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ দেখছি না।

আয়ারল্যান্ড সিরিজের অতিরিক্ত চারজনে কতটা ভরসা?

মাশরাফি- অবশ্যই তারা স্কোয়াডে এসেছে তারমানে তাদের উপর সবারই আস্থা আছে। ইয়াসির রাব্বি বেশ কিছুদিন ধরে ঘোরোয়া খেলছে। বিপিএলে ভাল খেলেছে, দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। ডিপিএলেও শুরুতে ভাল করেছে। ফরহাদ রেজা ভাল খেলেছে। পরে দলে এল। তাসকিনের দুর্ভাগ্য, নিউজিল্যান্ড যেতে পারলে হয়ত তার পথটা এত কঠিন হতো না। এরা সবাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষৎ আমি মনে করি। এরা বাংলাদেশকে লিড করবে। অবশ্যই নাঈম বা যারা আছে অভিজ্ঞতা কম যদিও নাইম টেস্ট খেলেছে। আশা করি এই আয়ারল্যান্ড বা ইংল্যান্ড যদি যেতে পারে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বড় অর্জন হবে।

সাব্বিরসৌম্যলিটনকে নিয়ে কোনো বার্তা?

মাশরাফি- লিটন-সৌম্য-সাব্বির- আপনারা দেখেছেন তামিমকে আমরা যে ভূমিকা দিয়েছি লম্বা সময় ব্যাট করার, ও লম্বা সময় ব্যাট করলে আমাদের রানটা বড় হয়। ও একশো করলে আমাদের তিনশোর কাছে যায়, তিনশোও হয়েছে। তামিম তার খেলার ধরণ পাল্টেছে দলের জন্য। তামিম এখন ফোকাস করে ৪০ ওভার  ব্যাট করার। ৫০ ওভারও বলি কখনো কখনো। তামিমকে যখন এই ভূমিকা দিচ্ছি তখন বাকীদের লিটন বা সৌম্যকে ওই স্বাধীনতা দিতে হয় যাতে শটস খেলতে পারে। নিউজিল্যান্ডে লিটন তিন ম্যাচেই মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। সমালোচনা কিন্তু হয়েছে কিন্তু আমাদের ওর উপর কোন চাপ ছিল না। কারণ একেবারেই ওটা ছিল ওরা ফ্রি ক্রিকেট খেলুক। এরমানে এই না যে ফ্রি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে আউট হবে। আপনি যদি দেখেন বীরেন্দ্রর শেবাগ বা গিলক্রিস্টের মতো কে মারত। কিন্তু ওদের ধারাবাহিকতা ছিল। ওদেরকেও এটা এডজাস্ট করতে হবে। তাই আমি বল্বো ওরা যদি পারফর্ম করতে পারে তাহলে দলের জন্য ভাল হবে।

মিরাজমোসাদ্দেকের দায়িত্ব নিয়ে?

মাশরাফি- আমার মনে হয় মিরাজই আমাদের একমাত্র স্পিনার যে ওপরে ব্যাটিং করতে পারে। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো যারা সাত বা আটে ব্যাটিং করে বা অলরাউন্ডার , তারা বোলার কাম ব্যাটসম্যান, তবে সাকিব ছাড়া। সে যদি ব্যাটসম্যান কাম বোলার হয়, তাহলে দলের জন্য সমস্যা হয়ে যায়। কারণ যারা আট নয় বা দশের দিকে ব্যাটিংয়ে নামে তাদের কাছ থেকে বোলিংটা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন সাইফুদ্দিন, ও যদি ব্যাটিং কিছুই না পারে, তারপরও সমস্যা নেই। ওর কাছ থেকে আমরা বোলিং আশা করি। মিরাজ ভালো করছে। নাঈমের কথা বললেন, ও ওভার-আর্ম বোলার, ও বাউন্স পেতে পারে, ওই চিন্তা করেই ওকে নেয়া। মোসাদ্দেক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রেক-থ্রো দিয়েছিলো। এ সব কিছু চিন্তা করেই আসলে ওদেরকে দলে রাখা। এ ছাড়া মোসাদ্দেক এখন পারফর্মও করছে। ঢাকা লিগে ভালো খেলেছে। মাঝামাঝি যারা আছে, মিঠুন ও রিয়াদ আছে, ওদের ব্যাকআপ লাগলে মোসাদ্দেকই আছে, যে ওখানে ভালো পারফর্ম করতে পারে।

বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করার চিন্তা আছে?

মাশরাফি- আমার কাছে দুইটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ; একটা হলো- শুরুর দিকে উইকেট না দেয়া যদি আমরা আগে ব্যাটিং করি। দুইটা উইকেট যদি পড়ে যায়, আমরা চাপে পড়ে যাবো। দুই নম্বর বিষয় হলো- আগে বোলিং করলে দ্রুত উইকেট নেয়া। আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। আর একটা বিষয় হলো ৪৩ ওভারের পর বোলিং ও ব্যাটিং, দুইটা জায়গা ঠিক রাখতে হবে। মিডল পার্টে আমরা ভালো করছি। আমরা যদি এই দুইটা বিষয় ঠিক রাখতে পারি, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা অনেকগুলো ম্যাচ জিততে পারবো।

বিশ্বকাপের যাওয়ার আগে দর্শকদের নিয়ে কোনো বার্তা?

মাশরাফি- দর্শকদের বিষয়ে একটা কথাই বলবো আমার ব্যক্তিগত চাওয়া আপনারা পুরো দলকে সাপোর্ট দিবেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেছি। তারপরও স্টেডিয়াম ভরা দর্শক পেয়েছি। এখন দেশের বাইরে খেলতে যাচ্ছি। আশা করি সেখানেও আপনাদের সাপোর্ট অবিরাম থাকবে।

(নাবা/৩০ এপ্রিল/এইচএ)