বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতির রেকর্ড

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে রাজস্ব ঘাটতির রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আমদানি বাণিজ্যে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, শুল্ক ফাঁকি আর ঘুষ বাণিজ্যের কারণে এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

চলতি অর্থ বছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতির অংক দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয়। সেই হিসেবেই বন্দরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। কিন্তু অনিয়ম বন্ধ হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে বৈধভাবে বাণিজ্যেরে ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতির কারণ বলে মনে করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বন্দরে কাস্টমস আইন এবং নিময়-কানুন যথাযথভাবে প্রয়োগ করার কারণে কিছু সুবিধাবাদী আমদানিকারকরা এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছে। এতে রাজস্ব আয় কমেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বৈধ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

কাস্টমস সূত্র থেকে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় পাঁচ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ২১ মে পর্যন্ত গত ১১ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সব বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর রাজস্ব পরিশোধের নিয়ম এক হতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে যে পণ্যের ওপর রাজস্ব ৪ ডলার, বেনাপোল বন্দরে ওই একই পণ্যের ওপর সাড়ে ৪ ডলার শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৩৮ হাজার টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে প্রায় দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ বন্দর থেকে বর্তমানে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে, তখন তার দ্বিগুণ আয় হবে।

সাধারণ সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, এক শ্রেণী ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটাও রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ।

সপ্তাহে ৭ দিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল পাচ্ছেন না। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, জায়গা সংকটে বর্তমানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে বেনাপোল বন্দর একটি আধুনিক বন্দরে রূপান্তরিত হবে।
নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/