বিহারিদের আধিপত্যে দিশেহারা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আটকে পরা পাকিস্তানি নাগরিকরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। বিশেষ করে ঢাকার মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরের কয়েকটি স্থানে ক্যাম্পের আদলে নিজস্ব এলাকা নিয়ে থাকছেন পাকিস্তানি তথা বিহারিরা। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের জেনাভা ক্যাম্প হচ্ছে বিহারিদের মূল ঘাটি। এখানে একটি এলাকা তাদের দখলে। সরকারিভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ সকল সুবিধা পাচ্ছে বিনামূল্যে। নির্দিষ্ট একটি এলাকায় তাদের বসবাস হলেও বিচরণ পুরো মোহাম্মদপুর এবং এর আশপাশ এলাকাজুড়ে।

যেখানেই খালি পেয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বসে গেছে। ধীরে ধীরে এলাকায় গড়ে তুলেছে আধিপত্য। ক্যাম্প এলাকায় মাদক ব্যবসা আর ছিনতাইয়ের ঘটনা বহু পুরানো।

তবে জেনেভা ক্যাম্পের সামনের গজনবী রোড, কৃষি মার্কেটের পেছনের রোডসহ আশপাশের কয়েকটি রাস্তা দখল করে দোকান, গ্যারেজ, সিএনজি পার্কিং, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং করার ফলে প্রায় প্রতিনিয়তই জানজট লেগে থাকে এই সড়কগুলোয়। বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের জন্য গজনবী রোড একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কারণ ওই রাস্তার পাশেই স্কুল, কলেজসহ কয়েকটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মপুরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সরকারি হাসপাতালে যেতে ওই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার দুই পাশে সিএনজি, মোটরসাইকেল, রিকশার গ্যারেজ তৈরি করায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ওই রাস্তায় সরাসরি ময়লা ফেলায় এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বেশি বেগ পেতে হয় স্কুল-কলেজে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং হাসপাতালগামী গাড়িগুলোর। সড়কে একটু গাড়ির চাপ বাড়লেই জ্যাম লেগে যায় রাস্তাটিতে। বিহারিদের এমন আচরণে অতিষ্ঠ ওই রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ।

একই চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের পাশের রাস্তা আসাদ অ্যাভিনিউ সড়কের। টাউন হল বাজারের পর থেকে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পের বিহারিরা রাস্তার দু’পাশ দখল করে গড়ে তুলেছে মোটরসাইকেলের গ্যারেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আর ওই গ্যারেজে গাড়ি মেরামতের কাজ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখা হয় রাস্তার ফুটপাতে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলাচলে সমস্যায় পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছুটির পরে ফুটপাত দখল থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাটতে হয়। আর এতেই বাধে বিপত্তি। কমে যায় সড়কের যানবাহনের গতি। গাড়ির চাপে লেগে যায় তীব্র জানজট।

মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্র রাহুল নাগরিক বার্তাকে বলেন, ‘সকালে স্কুলে আসার পথে ঝঞ্জাট কম হলেও ছুটির সময়ে পড়তে হয় বিপাকে। যানজট থাকায় বাসায় যেতে দেরি হয়। রিকশা, গাড়ি কিছুই চলতে পারে না। রাস্তার অর্ধেকের বেশি তো দখল করা।’

এ বিষয়ে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান নাগরিক বার্তাকে বলেন, রাস্তা দখলমুক্ত এবং ফুটপাত উদ্ধারে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উদ্ধার করলে কিছুদিন পর আবার দখল হয়ে যায়। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এ কাউন্সিলর।

তিনি আরো জানান, ‘এই রাস্তাটা এমন ছিলো না। আগে তো এরা সরাসরি ময়লা ফেলতো, এমনকি মলমূত্র ত্যাগ করতো রাস্তায়। আমরা বারবার উচ্ছেদ করেও তাদের সরাতে পারছি না।’ তিনি আক্ষেপের স্বরে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের তো এতো ম্যাজিস্ট্রেট নেই যে ঘনঘন উচ্ছেদ অভিযান করবে।’

কাউন্সিলর মিজান বলেন, ‘এটা তো রাস্তা, ব্যবসার জায়গা না। সিএনজি রাখার গ্যারেজ না।’ এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান তিনি। সাধারণ ডায়েরির একটি কপি দুই একদিনের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

সমস্বরে মন্তব্য করেছেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিফুল ইসলাম সেন্টু। তিনি বলেন, আমরা আর পারছি না। তাদেরকে নিষেধ করলেও শোনেনা। ইচ্ছা মতো সড়কের ফুটপাত দখল করে রাখছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।

নাবা/ডেস্ক/তারেক