বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিয়ে ইয়াসিরের চ্যালেঞ্জ

একটা সময় শুধু অংশগ্রহণকারী দল হিসেবেই বিশ্বকাপে যেত বাংলাদেশ। তবে সময় বদলেছে। গত কয়েক বছরে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে এবার বিশ্বকাপটাই জিততে ইংল্যান্ড গেছে লাল-সবুজরা। অভিজ্ঞ আর তরুণদের মিশেলে গড়া এবারের দলটিকে নিয়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন দেখছে ক্রিকেট পাগল বাঙালি। তার থেকে ব্যতিক্রম নয় তরুণ ডানহাতি ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী রাব্বি। বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতামূলক খেলার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার।

সম্প্রতি নাগরিক বার্তা ডট কমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রথমবার জাতীয় দলের সুযোগ পেয়েও মূল একাদশে না থাকার মিশ্র অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন রাব্বি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের দেশ নিয়েও আশার কথা জানান তিনি।

প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তবে কম্বিনেশনের কারণে মূল একাদশে না খেলতে পারা এই দুই অভিজ্ঞতার মিশ্র অনুভূতি কেমন?

আসলে জাতীয় দলের সঙ্গে প্রথম কোনো সফরে যাওয়া এটা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা। এই সফর থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। দলের কম্বিনেশনের জন্য হয়তো খেলানো হয়নি। এখানে দেশের স্বার্থ আগে। দল আগে। যার কারণে খুব একটা খারাপ লাগা কাজ করেনি। যখন আমার সুযোগ হবে তখন হয়তো দেশের জন্য খেলতে পারব। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সিনিয়রদের সঙ্গে প্রথম জাতীয় দলের ক্যাম্প, সফরের পুরো সময়টা কেমন কেটেছে?

সফরটা খুব ভালো কেটেছে। কারণ সবাই অনেক বড় ক্রিকেটার, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। লিগে হয়তো এক-দুজন ছিলেন কিন্তু সবার সঙ্গে তো আর আগে ড্রেসিং রুমে শেয়ার করা হয়নি। সবার সঙ্গে থাকা অনেক বড় সুযোগ আমার জন্য। প্রতিটি মুহূর্তে আমি নানা কিছু শিখেছি। উনারা কীভাবে কী করেন, কীভাবে মানসিক প্রস্তুতি নেন সব বিষয়ে আমি শিখেছি।

সবার সাহায্য কতটুকু পেয়েছেন?

সবাই খুব সহযোগী ছিল। আমাকে বলেছেন, এখন টিম কম্বিনেশনের জন্য হয়তো খেলানো হচ্ছে না। তুই পরিশ্রম করে যা, যখন সুযোগ আসবে খেলবি, ভালো খেলবি, এটাই মাথায় রাখবি। এভাবে প্রতিটি দিন তাঁরা আমাকে মানসিকভাবে বুস্টআপ করেছেন।

অভিষেকের অপেক্ষায় থেকেও না হওয়ার হতাশা কাজ করেছে?

নিজের প্রথম সফরে খেলতে না পারার অতটুকু হতাশাও কাজ করেনি। আমাদের কাছে দেশ আগে। দেশের স্বার্থে যা ভালো মনে করা হয়েছে উনারা তাই করেছেন। আর এখানে তো আমার হাতে কিছু নেই।

ফেরার আগে অধিনায়ক বা কোচের কোনো বার্তা?

তেমন কিছু ছিল না। তবে ফেরার আগে কোচসহ ডেকে তাঁরা বলেছেন, খেলানো হয়নি তার জন্য মন খারাপ করবে না। আমরা চাই তুমি আরো ভালোভাবে ফিরবে। তুমি এইচপিতে অনুশীলন করবে, যাতে দলে ব্যাক করলে খুব শক্ত হয়ে ফিরতে পার। ঘুরে ফিরে সবার কথাই এমন ছিল।

স্ট্যান্ডবাই হিসেবে আছেন? যেকোনো সময় ছুটে যেতে হতে পারে নিজে কতটা প্রস্তুত?

আমি চাই না বিশ্বকাপে কেউ চোটে পড়ুক। তবে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। যদি কোনো কারণে ডাক পড়ে তাহলে অবশ্যই আমি খেলার জন্য মানসিকভাবে তৈরি। শারিরিকভাবেও তৈরি। আসলে ক্রিকেট খেলা তো খেলাই। এখানে বাড়তি চাপ নিলে দিন শেষে কিছুই হয় না। সুযোগ পেলে আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চেষ্টা করব তাহলে কোনো চাপ থাকবে না।

শিরোপা জয়ের কথায় আসি, ফাইনালের দিন মিথুন আউট হওয়ার পর ড্রেসিং রুমের অবস্থা কেমন ছিল?

সবার মাঝে একটু তো টেনশন কাজ করছিলই। কারণ তাদের  পরপর হারানোর পর যদি ফাইনালে এত কাছে এসেও হেরে যাই এটা খুব হতাশার। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যখন মিথুন ভাই আউট হয়ে গিয়েছিলেন তখন মোসাদ্দেক নামায় কিছুটা ভয় কাজ করেছে। মোসাদ্দেক খুব ভালো ব্যাটসম্যান, তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেকদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি। কেমন করবেন এটা নিয়ে খুব ভয় পেয়েছিলাম। তবুও বিশ্বাস ছিল, মোসাদ্দেক আছেন স্ট্রাইকে, রিয়াদ ভাই আছেন। এরা দুজন ইনিংসটা শেষ করেই আসবেন।

ধারবাহিকতায় থাকলেও গত বিপিএল দিয়ে আলোচনায় এলেন। আপনার কি মনে হয় বিপিএলটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল?

আমি আসলে শুধু একটা টুর্নামেন্টকেই আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলব না। আমার ইনজুরির পর থেকে আমি ধারাবাহিক প্রতিটি লিগেই মোটামুটি রান করেছি। আমি সব টুর্নামেন্টকে সমান গুরুত্ব দেব। কারণ সেগুলোতে আমি ভালো না করলে বিপিএল পর্যন্ত আসতে পারতাম না। তাই আমি বলব চোটের পর যত টুর্নামেন্ট খেলেছি প্রতিটি টুর্নামেন্টই আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট।

আগামীর লক্ষ্য কতটা স্থির?

আমার একটাই লক্ষ্য আমি বাংলাদেশকে অনেকদিন সার্ভিস দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমি স্থির আছি। বাকিটা ভাগ্যের ওপর। এইচপির সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ধাপে ধাপে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।

বিশ্বকাপে নিজের দেশ নিয়ে প্রত্যাশা কতটুকু?

শেষ কয়েকটা ম্যাচ আমরা খুবই ভালো খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়, ত্রিদেশীয় সিরিজের জয়গুলো আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। বিশ্বকাপে সে আত্মবিশ্বাস আমাদের প্রতিটি ম্যাচে কাজে লাগবে। হারি-জিতি ম্যাচের ফলাফল একটা হবেই। এটা নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ ধরছি যে, আমরা প্রতিটি ম্যাচে প্রতিযোগিতামূলক খেলা খেলব। শুধু তাই নয়, এখন বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষমতা আমাদেরও আছে।

প্রিয় ব্যাটসম্যান?

আমাদের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আমি সবচেয়ে তামিম ভাইকে অনুসরণ করি। উনার ব্যাটিং ভালো লাগে। যদি প্রশ্ন করা হয় আমার প্রিয় ব্যাটসম্যান কে? আমি তামিম ভাইয়ার নামটাই আগে বলব। তবে এই ভালো লাগাটা কখনো বলা হয়নি উনাকে। ক্রিকেট নিয়েও কথা হয়নি উনার সঙ্গে। কিন্তু তিনি মাঝেমধ্যে আমাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেন। নানা পরামর্শ দেন।

শুনেছি আপনার মায়ের ইচ্ছে ছিল শিল্পী বানানোর সেখান থেকে ক্রিকেটে কীভাবে?

আমার বাবার ইচ্ছে ছিল আমাকে ক্রিকেটার বানাবেন। কিন্তু মা চাইতেন গান করি। তবে ক্রিকেট খেলতে বাধা দেননি। খেলার পাশাপাশি গান করি এটা চাইতেন তিনি। তিনি অনেক গান শুনতে পছন্দ করতেন। বলতেন, বাবার ইচ্ছে পূরণ করার পাশাপাশি যেন তার ইচ্ছেও পূরণ করি। আমার জন্য গানের শিক্ষক রাখেন। শিক্ষক সারে, গা, মা, পা শেখাতেন আমার এসব ভালো লাগত না। যখন গানের শিক্ষক আমাদের সামনে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন আমি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে বের হয়ে খেলতে চলে যেতাম। আর শেখা হলো না। ক্রিকেটেই মন দিলাম।

(নাবা/২৮ মে/এইচএ)