বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিসংখ্যান

ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে ধীরে ধীরে আধিপত্য হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দু বিশ্বকাপ জয়ের পর তাদের এই হেরে যাওয়ার পর্ব শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যারিবীয়রা এবারো নেই হট ফেভারিটের তালিকায়।

তবে গেইল, আন্দ্রে রাসেলদের গেম চেঞ্জিং পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখতেই পারেন সমর্থকরা।

চলুন জেনে নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাবনা আর সীমাবদ্ধতার কথা।

টেস্ট :

ওয়ানডেতে রাজত্ব হারানো উইন্ডিজ টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে কিছুটা জ্বলজ্বলে। শেষ তিন ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টির দুটিতে জয় তাই বলছে। ছোট ফরম্যাটের ঝলকটা যদি এবারের বিশ্বকাপে দেখাতে পারেন হোল্ডার, রাসেল, গেইলরা তবে র‍্যাংকিং, ফর্মের হিসাব নিকাশ ভুল হওয়া সময়ের ব্যাপার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংস্কৃতি :
ঐতিহ্যের সাথে অপূর্ব মেলবন্ধন ক্রিকেটের। আমুদে জাতি হিসেবে পরিচিত ক্যারিবীয়দের ক্রিকেট দর্শনে ট্রফি জয়ের চেয়ে আনন্দ উপজীব্য।

১৯৭০:
৮০র দশকে ক্রিকেট সাম্রাজ্য শাসন করা উইন্ডিজের গৌরব শুধুই অতীত। ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডসের মত সোনলী প্রজন্মের হাত ধরে ক্যালিপসো সুরের তালে প্রথম দুই বিশ্বকাপ জয়। তৃতীয় টায় রানার্সআপ। এরপর আর কখনোই ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ উইন্ডিজদের।

তারপরও বিশ্বকাপে ৯১ ম্যাচের ৬০ শতাংশ জয় ইংল্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে রাখছে মধ্য আমেরিকার দ্বীপপুঞ্জকে। সবমিলিয়ে ৭৯৯ ওয়ানডেতে জয় ৩৯২ টিতে। তবে র‍্যাংকিংয়ে নয় নম্বরে উইন্ডিজ।

২০১৫তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২ উইকেটে ৩৭১ ক্যারিবীয়দের বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ। আর সর্বনিম্ন ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ৯৩ রান। দলটির বিশ্বকাপ সেরা ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা। ৩৩ ম্যাচে ১২২৫ রান ব্যাটিং জিনিয়াসের। আর ২৭ উইকেট নিয়ে কোর্টনি ওয়ালশ সেরা বোলার।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মঞ্চ ত্রিদেশীয় সিরিজে হতশ্রী পারফরম্যান্স ছিলো হোল্ডারের দলের। টানা তিন ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশের সাথে। তবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটার ছিলেননা সিরিজে।

এক্স ফ্যাক্টর বিধ্বংসী ক্রিস গেইল তাদের একজন। বর্তমান ক্রিকেটারদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ৫ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা গেইল নিজের শেষ বিশ্বকাপটা নিশ্চয়ই রাঙ্গাতে চাইবেন চার, ছয়ের ঝলকে। এছাড়াও ড্যারেন ব্র্যাভো, শেই হোপ, শিমরন হেটমায়াররা ব্যাটিংয়ের ভরসা।

তবে ক্যারিবীয়দের শক্তির জায়গা অলরাউন্ডার ত্রয়ী। আইপিএলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল ক্রিকেটার আন্দ্রে রাসেল, ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানো কার্লোস ব্রাথওয়েট আর অধিনায়ক জেসন হোল্ডারে আস্থা ক্যারিবীয়দের।

সে তুলনায় দূর্বলতা বোলিংয়ে। ওশানে থমাস, শেলডন কটরেলের মত পেসাররা একদিকে যেমন অনভিজ্ঞ তেমনি স্পিনে এখনো পর্যন্ত নির্বীষ অ্যাশলে নার্স, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। ৩১ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে উইন্ডিজের। এপর অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের মত শক্ত প্রতিপক্ষরা অপেক্ষায়।
নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/