বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে সিপিবি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, সদ্য প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটকে গতানুগতিক। দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্থনীতির যে প্রবৃদ্ধি ঘটছে তার মাত্র ১ শতাংশ তাদের দিয়ে ৯৯ শতাংশই ১ শতাংশ লুটেরা ধনিকদের পকেটস্থ করার প্রক্রিয়াকে মদত দেয়ার দর্শনেই এ বাজেট প্রণীত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ বাজেট লুটেরা ধনিকদের আরও ধনী করবে এবং গরিব-মধ্যবিত্তকে আপেক্ষিকভাবে আরও দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসহায় করে তুলবে। বাজেটকে তারা সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষার গণবিরোধী দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখান করেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বাজেট প্রস্তাবের ভিত্তি হলো পুঁজিবাদের নয়া উদারবাদী প্রতিক্রিয়াশীল দর্শন। এই দর্শনের মূলভিত্তি হলো ধনিক তোষণ ও শ্রেণি-ধনবৈষম্য সৃষ্টি করা। এই বাজেটে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির অন্যতম সমাজতন্ত্রের কোনও প্রতিফলন নেই। প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ে পরোক্ষ কর প্রত্যক্ষ করের দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভ্যাটসহ পরোক্ষ কর থেকে এই বর্ধিত রাজস্ব আদায়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা সকল পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে মূল্যস্ফীতির হারকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবে। আর এই দুঃসহ ভারের সবটাই বহন করতে হবে গরিব-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ নাগরিকদের। অথচ বিত্তবানদের ওপর ধার্য্য প্রত্যক্ষ কর মূলত একই পর্যায়ে রাখা হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর রেয়াত অব্যাহত রাখা হয়েছে, খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিবর্তে সুদের হার কমানো হয়েছে। এই বাজেটে এভাবে গরিব জনগণের সম্পদ মুষ্ঠিমেয় লুটেরা ধনিকের হাতে প্রবাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বাজেটের আসল লক্ষ্য হলো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশি-বিদেশি লুটপাটকারীদের পকেট ভারি করা।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এবারের বাজেটের আকার যেমন স্মরণকালে সর্বোচ্চ তেমনি ঘাটতির পরিমাণও স্মরণকালে সর্বোচ্চ। ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। বাজেট প্রস্তাবে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা কীভাবে অর্জিত হবে তা সুস্পষ্ট নয়। বর্তমান ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল তা অর্জিত হয়নি। ঘোষিত বাজেটের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হবে। ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ বাজেটে ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি হবে। এই বিপুল পরিমাণ বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাজেটের পরিমাণকে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এই অর্থের বেশিরভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋণ পরিশোধ, শ্বেতহস্তির মতো বিশাল সিভিল-মিলিটারি প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিলাস দ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস, কর-রেয়াতের নামে ধনিকশ্রেণিকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। এসবই হলো লুটেরা ধনিকশ্রেণির স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ।’

নাবা/১৩জুন/তারেক