বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ায় খুশি নারীরা

সাদিয়া আক্তার রিমা। পেশায় একজন গৃহিনী। বিয়ে হয়েছে বছর তিন হবে। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামীকে সিগারেট ছাড়াতে চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু ছাড়াতে পারছেন না। নতুন বাজটে তামাক পণ্যের মূল্য বাড়ায় পুরান ঢাকার বংশালের বাসিন্দা এই নারী এখন কিছু আশা দেখছেন, তার স্বামীকে সিগারেট ছাড়াতে পারবেন বলে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ার প্রস্তাব দেখে তার এই আশা। স্বামীকে এবার কড়া বার্তা দিলেন সিগারেট ছাড়ার। এতে স্বামীর কিছুটা সম্মতি দেখে তার মনে স্বস্তি। রিমা বলছিলেন, সংসারে সিগারেটের বাড়তি খরচ কমাতে এবার স্বামীকে কড়া করে বলে দিয়েছি। তাকে এটা ছাড়তেই হবে। দাম আরও বাড়ালে আরও ভালো হতো। সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবকে রিমার মতো স্বাগত জানিয়েছেন অনেক নারী।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার জীবনের প্রথম বাজেট পেশ করেন । টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের এই বাজেটে সিগারেটের প্রতি শলাকার মূল্য সর্বোচ্চ ১২ টাকা ৩০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৩ টাকা ৭০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিড়ি, জর্দা, গুলসহ প্রায় সব ধরনের তামাকজাত পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে এই বাজেটে।

তবে অনেক নারী আবার ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তারা বলছেন, শুধু দাম বাড়ালে হবে না। সিগারেটের উৎপাদন, বিপণন বন্ধ করতে হবে। দেশের ৪৮তম এই বাজেটে সিগারেটের দাম নিয়ে ফেসবুকে এক মন্তব্যে রিতা জামান নামের এক নারী বলছিলেন, ‘খুশি হয়ে লাভ নেই, বন্ধ করলে ঠিক ছিল। কারণ, খোরেরা ঠিকই খাবে বরং সংসারে বাজে খরচ আরও বাড়লো।’ নওশিন ওয়াহেদ নামের অপর এক নারী বলছেন, আমি তো অনেক খুশি। কিন্তু সিগারেটের দাম বাড়ার থেকে বন্ধ করে দিলে বেশি খুশি হতাম।

নাবা/ডেস্ক/রাজু