পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগ্রহীত।
নিউজ ডেস্ক:  সেবাপ্রার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, সেবাপ্রার্থীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সেজন্যে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও পরামর্শদানের প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আশা প্রকাশ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‌‌পুলিশ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও জনগণের সেবা প্রদান করবে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের সেবায় পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করি।

‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি একটি দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির পূর্বশর্ত। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় আপনাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ জনগণ আশা করে পুলিশ আরও সেবাধর্মী ও জনবান্ধব বাহিনী হবে।’

অপরাধ ও অপরাধীরা নির্দিষ্ট কোনো সীমায় আবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হওয়া সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ সন্ত্রাস, জঙ্গিদমন এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন তা বেশ প্রশংসনীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, জনগণের জান-মাল রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসবাদ তথা অপরাধ দমন করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। আশা করি অতীতের মতো এ দায়িত্ব পালনে সাফল্য দেখিয়ে যাবেন তারা।

পুলিশ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ সম্পর্কে আবদুল হামিদ বলেন, জনসাধারণের জন্য পুলিশের সেবাগুলো সহজসাধ্য করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, সুখী ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘রূপকল্প-২০২১’ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ এবং ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়নে পুলিশকেও সক্রিয় ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিনসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/