পাকা ধানে অগুন দিলেন হতাশ কৃষক

একদিকে ধানের দাম কম অন্যদিকে অধিক মজুরি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা কোনো দিনমজুর। ফলে জমিতে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ঘরে ধান তুলতে পারছেন না।

সেই দুর্দশায় টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করলেন এক কৃষক।

আজ রোববার (১২ মে) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার নিজে ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর টাঙ্গাইল সদরসহ ১২টি উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।

তবে এ পর্যন্ত পাকা ধান প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। দিনমজুরের অভাবে বাকি ৭০ শতাংশ ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারছে না। দিন প্রতি একজন দিনমজুরকে দিতে হয় ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা। আর বর্তমান বাজারে ধানের মূল্যে ৫০০ টাকা মণ। এতে প্রায় দুই মণ ধান বিক্রি করে কৃষক একজন দিনমজুরকে (কামলা) মজুরি দিতে হচ্ছে। আবার অধিক মজুরি দিয়েও দিনমজুর পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে জমিতে পাকা ধান জমিতে পড়েই নষ্ট হচ্ছে।

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার বলেন, সরকার মণ প্রতি ধান কিনতে ৫শ টাকা নির্ধারণ করেছে। ধান কাটতে দিনমজুরকে দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা মণ প্রতি। এরপরও ধান ঘরে তুলতে আরো খরচ। অন্যদিকে বেশি মজুরি হলেও কামলা পাওয়া যায় না। ক্ষেতে ধান পাকলেও তা ঘরে তুলতে পারছি না। তাই এক দাগের ৫৬ শতাংশ ধানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, জেলায় গত বছরের তুলনায় এবার ব্যাপক পরিমাণ বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টরের ধানের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে।

নাবা/ডেস্ক/ওমর