পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকের গণপদত্যাগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুটি হাসপাতালের প্রায় ৩০০ চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। এদিকে, চিকিৎসকদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা সেন।

আজ (১৪ জুন) দুপুরে কলকাতার নীলরতন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের মঞ্চে হাজির হন অপর্ণা সেন। সেখান থেকে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নমনীয় হওয়ার অনুরোধ করে বলেন, “আপনি শুধু তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী নন, আপনি গোটা রাজ্যের, সবার মুখ্যমন্ত্রী। যারা আন্দোলন করছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাদের নিরাপত্তার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করুন।’’

মমতার উদ্দেশ্যে অপর্ণা সেন আরও বলেন, “আপনি তো মায়ের মতো, আপনি আপনার অবস্থান থেকে সরে আসুন। আপনার ওপর ওদের (চিকিৎসক) অনেক ক্ষোভ এবং অভিমান রয়েছে। আপনি এখানে এসে ওদের সঙ্গে কথা বলুন।”

 টানা পাঁচদিন ধরে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতিসহ আন্দোলনের জেরে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত সপ্তাহে কলকাতার নীলরতন মেডিক্যাল কলেজের এক জুনিয়র চিকিৎসককে রোগীর স্বজনরা মারধর করে। অভিযোগ, ওই সময় বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতিকারী হাসপাতালে হামলা চালায়। এই ঘটনায় পরপরই রাজ্য জুড়ে চিকিৎসকরা নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে ৮৯ জন এবং কলকাতার পিজি হাসপাতালেও ১৭৫ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন।

শুধু কলকাতার এই দুই হাসপাতালে নয়, গত দুদিন ধরে রাজ্যের বেশ কিছু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ বেশ কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন।

“চিকিৎসকরা নাম পদবী দেখে চিকিৎসা করান”, গতকাল কলকাতার পিজি হাসপাতালে গিয়ে এমন ঢালাও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা হিন্দু মুসলিম দেখে চিকিৎসা করাচ্ছেন।” এমন কি তিনি এও বলেছেন, “যারা আন্দোলন করছেন সেই চিকিৎসকরাও বহিরাগত।”

মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা চিকিৎসক মহলে। আজ দেশ জুড়ে আউটডোরে জুনিয়র চিকিৎসকরাও ধর্মঘট পালন করছেন। এছাড়াও, কলকাতার এই আন্দোলনে সারাদেশের সাড়ে তিন লাখ চিকিৎসক সমর্থন জানিয়েছেন। সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

নাবা/ডেস্ক/তানিয়া রাত্রি