নুসরাতের মৃত্যু , এক নিষ্ঠুরতার নাম

অবশেষে মারা গেল ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত । কি করলে বাঁচত নুসরাত? তার শিক্ষকের কাছে শরীর সমর্পন করলে? মামলা তুলে নিলে? ঠিক কতটা আত্নসমর্পন করে একটি নারী বেচে থাকতে পারে। ২০১৭ সালে মেয়েটি যখন দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছিল তখনও তার চোখে চুন নিক্ষেপ করে  এ জামাতি নেতা। আর এবার তার গায়ে আগুন দেয়া হল।  কিছু অমানুষ মেয়ে যারা তার সহপাঠী ছিল তারাও এ কাজে সহায়তা করল।মারা যাওয়ার আগে সমাজের  মুখে  প্রচন্ড এক চপেটাঘাত করে গেল নুসরাত। মাদ্রাসা একটি ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । কিন্তু কি ভয়ঙ্কর ঘটনা। এমন নিষ্ঠুরতা , এমন সহিংস উন্মাদনা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক কি করে দেখালেন তাই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে যারা সবসময় পরকালের ভয় দেখান। অথচ নিজের অপকর্মের সময় পরকালের ভয় পেলেন না।

ফেনীর এই মাদ্রাসা শিক্ষক কে দেখতে মানুসের মতই লাগে। সুন্নতি দাড়ি। মাথায় মস্ত টুপি। ধর্মীয় লেবাসে নিজেকে ঢেকে রাখা এক জন্তু। জানতে ইচ্ছা করে তার সংসারে কোন কন্যা সন্তান আছে কি? সেই মেয়ে তাকে কি বাবা ডাকে?  তার পরিবার, স্ত্রী কন্যা জানে তার ধর্ষক পরিচয়?

মাদ্রাসা শিক্ষক সিরাজউদ্দৌলা এমন সাহস পাওয়ার কারন বিচার না হওয়ার সংষ্কৃতি। সে ধরেই নিয়েছে তার কোন বিচার হবেনা। কারন সে সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন পুষ্ট। এ যেন আধিপত্যকামিতার এক চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। জামাতের নেতা হয়ে সিরাজউদ্দৌলা এ আমলে কিভাবে কাজটি করল সেটি এক প্রশ্ন। এদিকে প্রশাসনের বড়বড় লোক পুলিশের বড় কর্তাও তাকে বাঁচাতে তৎপর ছিল। হয়ত একদিন টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে সে বেঁচে যাবে। কিন্তু রোজ হাশরের ময়দানে কি জবাব দেবে?

নুুসরাতের জানাজায় উপচে পরা ভিড়। প্রশ্ন হচ্ছে এই লোকগুলো কোথায় ছিল যখন মেয়েটি রেপ হচ্ছিল ? এরা পাশে দাড়ালে হয়ত মেয়েটি বেঁচে যেত।একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হল। অথচ অন্য কোন আলেম সমাজ বা মাদ্রাসাগুলো প্রতিবাদ করলনা। বোরখা পড়া মাদ্রাসার ছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছে ধর্ষক সিরাজউদ্দৌলাকে বাঁচানোর জন্য। এরা কি ধর্মের আফিমে আশক্ত? নিজের বিবেকবুদ্ধি আলমারিতে তালা দিয়ে রেখেছে? যে বোরখাা পড়া মেয়েগুলো ওই ধর্ষক কে বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছে তারা কি ধর্ষিতা হতে চায়?  নাকি ইতিমধ্যে হয়েছে ? এদের মাথার ভেতর ধর্ম ছাড়া আর কিছুই কি নেই? নাকি ওইসব হুজুরদের হাত ধরে তারা বেহেস্তে যেতে চায়?

নুসরাত ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচতে চেয়েও বাঁচতে পারেনি। সিরাজ আর তার সহযোগীরা মেয়েটিকে বাঁচতে দেয়নি। পুজা, মিতু, খাদিজা, তনু এরা কি বিচার পেয়েছে? কোন দিক থেকে আঘাত করলে এইসব অপশক্তি লেবাস ধারীদের হাত থেকে আামরা মুক্তি পাব? প্রায় প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে। সতরঢাকা, হিজাব পরেওতো ধর্ষনের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছেনা মেয়েরা। কত হাজারো ধর্ষিতার অভিশাপে জর্জরিত আমাদের সমাজ। আদালতও এদের পাশে থাকেনা।

এর মধ্যে আবার কিছু মানুষ আছে যারা সমবসময় ধর্মীয় লেবাসে থাকে। তারা বেশ বিখ্যাত মাওলানা। এদের টুপি দাড়ি আর বোরখা পড়া দেখলে মেজাজ ঠিক রাখা যায়না। এদের একমাত্র কাজ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে গরম রাখার জন্য নানারকম ধর্মীয় স্ট্যাটাস দেয়া আর ভিডিও পোস্ট করা। ওই মৌলভী সাহেবরা জাতীয় সংগীত করা গুনা।. নববর্ষ উদযাপন হারাম, বোরখা না পড়লে গুনা। নিজেদের ইচ্ছামত এইসব বানী প্রচার করেন । আরেকদল মূর্খ এই সব অনুসরন করে।

পৃথিবীর এক প্রান্তে  ব্ল্যাক হোল পয়েন্ট অব নো রিটার্নের ছবি তুলে ফেলেছে। আর আমরা এই প্রান্তে ধর্ষণ ,হত্যা, অপমৃত্যু বা দূর্ঘটনার মতন সমস্যাগুলোয় জর্জরিত হচ্ছি । সমাধান পাচ্ছিনা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নুসরাতের ঘটনার পরও মাদ্রাসার যে চিত্র উঠে এসেছে তা আমাদের কে আতঙ্ক গ্রস্থ করে। যেহেতু মাদ্রাসা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্তেও সেখানে মেয়েরা ধর্ষিতা হচ্ছে , অপমানিত হচ্ছে। ছোট বাচ্চারা বলাৎকারের শিকার হচ্ছে কাজেই তা বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। টোল , মক্তব , মাদ্রাসার দিন আর নেই তারপরও এই অগ্রসরতার যুগেও যেসব অভিভাবকরা ধর্ম শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েদের পাঠান তাদের উদ্দেশ্যে বলছি মাদ্রাসা কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ধর্ম ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল। সেখানে শত শত সিরাজ বাস করে। যাদের সবাই ধরাও পড়েনা।