ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার ভিডিও শেয়ার, একজনের কারাদণ্ড

নিউ জিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার সরাসরি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার অপরাধে  ফিলিপ আর্পস নামের এক নাগরিককে ২১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।  ওই ব্যক্তি ভিডিওটি মোট ৩১ জনকে পাঠিয়েছিলেন।

তার এই আচরণকে ‘বিদ্বেষমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিচারক তাকে ওই কারাদণ্ড দেন।আদালতের রায়ে বলা হয়, ফিলিপ আর্পস নামের ওই নাগরিক বন্ধুদের ভিডিও পাঠিয়ে যে কতজন মারা গেছে তা গুণতে বলেছিলেন।

ক্রাইস্টচার্চের জেলা জজ স্টিপেন ও ড্রিসকোল বলেন, আর্পস ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিণতির জন্য অনুতপ্ত বোধ করেনি।’ মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চ জেলা আদালতে আর্পসকে দুই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

আদালত জানায়, একটি সম্পাদিত ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনা ছিলো আর্পসের। সেখানে কতজন নিহত হয়েছে সেটি গ্রাফিক্স আকারে বসানোর ইচ্ছা ছিলো তার। নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, সম্পাদিত ওই ভিডিওকে ‘দারুণ’ বলে অভিহিত করেছেন আর্পস।

আর্পসের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বিচারক ও ড্রিসকোল বলেন, এটা ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ’। হামলার পর আবার  এই ভিডিও শেয়ার করেছে যা আরো   ‘নিষ্ঠুর’ আচরণ। তারপরও  আর্পসের ব্যাপারে তারা  তেমন কিছু  প্রকাশ করতে চান না। এতে করে সে নায়কে পরিনত হবে ।

গত এপ্রিলেই ৪৪ বছর বয়সী আর্পসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চলতি বছর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ২৮ বছর বয়সী ব্রেন্টন ট্যারান্ট   নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুক হামলা করে। নিহত হয়  অর্ধশত মানুষ।

হামলাটি বিশ্ববাসীর সামনে নতুন এক নৃশংস ঘটনা। কারন এ  প্রথম কোন   হামলাকারী হত্যাকান্ডের দৃশ্য   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রচার করে এবং তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এতে আবারও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে  প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানান, তিনি ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘যেসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে শেষ পর্যন্ত তাদেরই দায় এগুলো সরানোর। আমি মনে করি তাদেরকে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। সুত্র: বিবিসি।

নাবা/ডেস্ক/তানিয়া রাত্রি