নদী বাঁচাতে উচ্ছেদই যথেষ্ট নয়: পবা

রাজধানী ঢাকার চার পাশের নদীগুলো বাঁচাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদই যথেষ্ট নয়,  নদীর উদ্ধার করা ভূমি নদীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন।
আজ শুক্রবার সকাল ১১ টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-সহ অন্যান্য সমমনা সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ।

এ সময়ে বক্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরীর জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। ভূমিদস্যুদের বেপরোয়া দখল, ভরাট এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ ও অব্যাহত আগ্রাসনের ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। এ নদী গুলোর অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বার বার উপেক্ষিত হয়েছে। ভূমিদস্যুরা প্রথমে আবর্জনা ফেলে কাঁচা, পরে সেমিপাকা ও পাকা স্থাপনার মাধ্যমে প্রথমে নদী তীর দখল করে। পরে ধীরে ধীরে দখলের সীমানা বাড়াতে থাকে।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা অগনিত হলেও কোনটাই বিচ্ছিন্ন নয়। একে অন্যের সঙ্গে প্রাকৃতিক নিয়মে সুশৃঙ্খলভাবে সংযোজিত। সারা দেশে নদ-নদী জালের মতো বিস্তৃত হয়ে থাকা নদীগুলোর কোনো একটি ভরাট ও দখল হয়ে সংকুচিত হলে শাখা-প্রশাখা নদী গুলোতেও এর প্রভাব পরে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

অন্যদিকে নদীর পাড়ে হাঁটার জায়গা, পার্ক ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা থাকা দরকার কিন্তু তা যেন কোনো ভাবেই নদীর সীমানার মধ্যে না পড়ে। নদীর নির্ধারিত সীমানার পাশে এরকম স্থাপনা করা যেতে পারে যাতে নদীর স্বাভাবিক জলধারা ও পরিবেশ বজায় থাকে।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, নোঙর-এর সভাপতি সুমন শামস, বানিপা’র সভাপতি ইঞ্জি. আনোয়ার হোসেন, ছায়াতল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বি এম সোহেল রানা, সচেতন নাগরিকের সভাপতি রুস্তম খান, পবা’র সদস্য মো. সেলিম, পুষ্পসাহা পুকুর রক্ষা কমিটির সভাপতি নাসির খান মিন্টু, সম্ভব বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবু, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সদস্য মো. ফারুক হুসাইন, নোঙর-এর সদস্য আমিনুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।

নাবা/রাজু/নয়ন